
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 November 2024 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিন পেতে আগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানি ছিল বুধবার। এই শুনানিতে বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাঁদের সাফল্যের হার কত, পার্থকে জামিন দিতে সমস্যা কোথায়, এইসব প্রশ্ন করা হয়েছে তাঁদের আইনজীবীকে।
নিয়োগ মামলায় বিগত কয়েক দিনে পরপর জামিন হয়েছে। সদ্য জামিনে মুক্তি পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 'বান্ধবী' অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও। কিন্তু পার্থর আদতে জামিন কবে হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে দুই বিচারপতির ভিন্ন মতের কারণে তাঁর জামিন আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ তাঁর জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ পার্থর মামলায় ইডিকে কার্যত ধমক দিয়ে প্রশ্ন করেছে, ''আপনাদের সাজা ঘোষণার হাত কত? ৬০-৭০ শতাংশ হলেও বুঝতাম।'' এরপরই তাঁকে দীর্ঘ সময়ে জেলে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দিলে কী সমস্যা হবে, তাও জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।
ইডির আইনজীবীর ব্যাখ্যা, পার্থ জামিন পেলে মামলার তদন্তে ক্ষতি করতে পারেন। তথ্য-প্রমাণ লোপাট করতে পারেন। পাশাপাশি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। পাশাপাশি, এই মামলায় অন্য অভিযুক্ত অর্পিতা মুখোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে ভীত বলেও দাবি করেছে ইডি। যদিও পার্থর আইনজীবী পাল্টা দাবি, ওঁকে (অর্পিতা মুখোপাধ্যায়) নিয়ে কোনও চিন্তা নেই তাঁদের। যার বাড়ি থেকে টাকা পাওয়া গেছে দায় তাঁর। তবে পার্থ যে বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই এতদিন জেলে থাকছেন সেটা ফের আদালতের নজরে এনেছেন তিনি।
পার্থর আইনজীবী মুকুল রোহতগী বলেন, এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে সাত বছর। অথচ পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যে আড়াই বছর জেল খেটে ফেলেছেন। তাও বিচারপ্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। এদিকে যার বাড়িতে টাকা পাওয়া গেল, সেই অর্পিতা জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে মানিক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে তাঁর ছেলে, যারা অন্যতম অভিযুক্ত তাঁরাও জামিনে মুক্ত। শুধু পার্থকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে কার্যত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালতও। বিচারপতিদের বক্তব্য, ''অর্পিতা কে তা জানা দরকার। শুধু তাঁর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে হবে না, প্রমাণ খতিয়ে দেখতে হবে। কেউ ঘুষের টাকা বাড়িতে রাখে না। আড়াই বছর জেলে খাটার পর যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত না হন, তখন কী হবে?'' ইডির পক্ষের আইনজীবী এই বিষয়ে বক্তব্য, ১০০ শতাংশ সাজা ঘোষণা যাতে করা যায় তার জন্যই তদন্ত হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে জামিন পাওয়া উচিত নয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।
এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তথ্য চেয়েছে যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় কতদিন ইডি এবং সিবিআই হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার এই তথ্য জমা দিতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে। সেইদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।