দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘নৃশংস হত্যা’। (Brutal killing)। লখিমপুর খেরিতে আটজনের মৃত্যু সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। লখিমপুরের হিংসা নিয়ে এক জনস্বার্থের মামলায় এদিন শীর্ষ আদালতে শুনানি হয়। বিচারপতিরা বলেন, ওই হিংসার পরে উত্তরপ্রদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে তাঁরা আদপেই সন্তুষ্ট নন। তাঁদের কথায়, “প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বলেন, তিনি আশা করেন এই মামলার সংবেদনশীলতা বিচার করে ব্যবস্থা নেবে উত্তরপ্রদেশ সরকার। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, এই মামলার কোনও তথ্যপ্রমাণ যেন নষ্ট না হয়।
গত রবিবার লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের জমায়েতের মধ্যে ঢুকে যায় একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল। চার কৃষক মারা যান। অভিযোগ, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে উত্তরপ্রদেশ সরকারের হয়ে এদিন সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে। প্রধান বিচারপতি রামানা বলেন, “এফআইআর দেখে বোঝা যাচ্ছে, ওই অপরাধ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৩ নম্বর ধারায় পড়ে। এই ধরনের মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করা হয়, বর্তমান অভিযুক্তের সঙ্গেও তেমনই ব্যবহার করা উচিত।”
হরিশ সালভে বলেন, “ময়না তদন্তের রিপোর্টে কোথাও বুলেটের ক্ষত-র কথা বলা হয়নি। সেজন্য ১৬০ নম্বর ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যেভাবে গাড়িটি চালানো হচ্ছিল, তাতে ৩০২ ধারার মামলাও হতে পারে।” পরে প্রবীণ অ্যাডভোকেট বলেন, “এই মামলায় যে অভিযোগ উঠেছে, তা হয়তো সত্যি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের হয়তো শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। এই মামলায় যে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে খুনের অভিযোগ সত্যি হতে পারে।”
এর মধ্যে জানা যায়, শুক্রবার পুলিশের সামনে উপস্থিত হননি আশিস মিশ্র। জেরার জন্য তাঁকে শুক্রবার পুলিশের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল।
সোমবার আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ এই হাই প্রোফাইল অভিযুক্তকে আড়াল করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার লখনউ জোনের ইনস্পেক্টর জেনারেল লক্ষ্মী সিং জানিয়েছেন, আশিসকে ইতিমধ্যে সমন পাঠিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আসতে বলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ করা হতে পারে। আশিসের ঘনিষ্ঠ দুজনকে গ্রেফতার করে জেরা করছে পুলিশ।