
সোমা দাস
শেষ আপডেট: 3 April 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় (SSC Recruitment Case) কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায়ই বজায় রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২০১৬-র পুরো প্যানেলই বাতিল করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু একজন বাদ গেছেন চাকরি বাতিলের তালিকা থেকে তিনি সোমা দাস (Soma Das)। 'মানবিক' কারণে তাঁর চাকরি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। এক্ষেত্রেও কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে।
সোমা দাস ক্যানসার আক্রান্ত। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ যখন এই মামলার রায় দিয়েছিলেন তখনও সোমার চাকরি কাড়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টও একমাত্র তাঁর চাকরি বাতিল করল না। এসএসসিতে নিয়োগের অনিয়মে পুরো প্যানেল বাতিল করলেও ছাড় দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সোমা দাসকে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যানসার ধরা পড়েছিল সোমার। তবে তিনি লড়াই ছেড়ে দেননি। চাকরির দাবিতে অসুস্থ অবস্থাতেও দিনের পর দিন কলকাতার রাস্তায় ধর্না, অবস্থান বিক্ষোভ করে গেছেন। এরই মধ্যে মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এসএসসি মামলায় তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্য সরকারকে 'অনুরোধ' করেছিলেন যাতে তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়। সেই 'অনুরোধ' মেনে ক্যানসার আক্রান্ত সোমাকে চাকরির সুপারিশপত্র দিয়েছিল কমিশন। বীরভূমের নলহাটি-১ ব্লকের মধুরা হাইস্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন সোমা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর স্বস্তিতেই তিনি।
যদিও গোটা বিষয় নিয়ে সার্বিকভাবে খুশি হতে পারেননি সোমা দাস। তাঁর কথায়, গোটা প্যানেলে অনেকেই যোগ্য ছিলেন। সরকার এবং এসএসসি-র গাফিলতির কারণেই অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হল না। তিনি কখনই চাননি তাঁর একার চাকরি থাকুক আর বাকিদের চলে যাক। এই বিষয়টিই তাঁর মানতে কষ্ট হচ্ছে।
কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায় বজায় রাখলেও সামান্য বদল বা 'মডিফিকেশন' করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছে, যারা অন্য সরকারি দফতর থেকে এখানে এসেছিলেন, তাঁরা পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। আর এই কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যে পরিমাপের দুর্নীতি হয়েছে, তা এখন আর শুধরে নেওয়ার অবকাশ নেই তাই নতুন করে পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে। তবে এমন চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের বয়স বেড়ে গেছে, তাঁদের কী হবে? শীর্ষ আদালত তাঁদের জন্য বয়সসীমা নিয়ম শিথিল করেছে।