ওডিবিএলের শতবর্ষে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠিত হল সুনীতিকুমার স্মারক বক্তৃতা। ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার ধারাবাহিকতায় নতুন দিশা দেখালেন শিক্ষাবিদরা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:15
দ ওয়াল ব্যুরো: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম দিবসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে অনুষ্ঠিত হল 'সুনীতিকুমার দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা'। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।তিনি বলেন, 'ভাষার কোনও ভৌগোলিক সীমারেখা নেই, তা দেশ-কালের উর্ধ্বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবের আগে বাংলা বিভাগের সুনীতিকুমার দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা ছাত্রছাত্রীদের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।' উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রাকালে অনুষ্ঠিত এই বক্তৃতা বাংলা বিভাগের গবেষকদের নতুন প্রেরণা জোগাবে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জিৎ মণ্ডল, শ্যামশ্রী বিশ্বাস সেনগুপ্ত, তুষার পটুয়া, পীযূষ পোদ্দারসহ প্রায় চারশো ছাত্রছাত্রী ও গবেষক। বাংলা বিভাগের গবেষক ও ছাত্রছাত্রীর কণ্ঠে 'মহারাজ একি সাজে' উদ্বোধনী গানটির পাশাপাশি বিভাগের ভাষাতত্ত্বের সহকারী অধ্যাপক শ্যামশ্রী বিশ্বাস সেনগুপ্তের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে। ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
বাংলা বিভাগের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস জানান, 'রবীন্দ্রনাথের একাধিক লেখায় সুনীতিকুমারের প্রসঙ্গ আছে। সুনীতিকুমারই 'ওডিবিএল' (অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ বইতে দেখিয়েছেন, বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ। কিন্তু কথ্য রূপে আরও প্রাচীন। এই বছর বইটি ১০০তম বছরে পা দিল।' বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশকে খুঁজতে হবে বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতাতে। বাংলা ভাষার ধ্রুপদি ভাষ্য হিসেবে স্বীকৃতি বাঙালির সেই উৎস সন্ধানের আর একটি উদ্যোগ। সেই অনুসারে আজকের স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল 'বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি'।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা, ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক অমিতাভ দাস বলেন, 'মাছ-ভাতকে ঘিরে বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির অতীত চিহ্নও আছে পাণ্ডুরাজার ঢিবি কিংবা চন্দ্রকেতুগড়ের উৎখননে। লিখিত পদ্যভাষার নিদর্শন যে চর্যাপদ-তাও আসলে বাংলা কথ্যভাষার প্রাচীনতাকেই প্রমাণ করে। সুনীতিকুমারের যুগান্তকারী গবেষণা শুধু বাংলা ভাষা নয়, বাঙালির সংস্কৃতির পরম্পরা সন্ধানে আজও আমাদের প্রাণিত করে।' প্রসঙ্গত, ওডিবিএল হল সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণাপত্র যেটির জন্য তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।