
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
শেষ আপডেট: 29 July 2024 21:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে বাঘপ্রেমীদের ফ্যান্টাসির অন্ত নেই। এশিয়ার মাত্র কয়েকটি দেশের বন-জঙ্গলেই রয়েছে বাঘের অস্তিত্ব। তার মধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান বাসা হল সুন্দরবন। আকৃতি হোক বা সৌন্দর্য, বিশ্বের সব বাঘের মধ্যে এই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনে তাদের অবাঘ বিচরণ।
তবে বাঘ তো সব একই হয়, হলুদ-কালো ডোরাকাটা। সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার পৃথিবীর অন্যসব ডোরাকাটা বাঘের থেকে কোথায় এমন আলাদা, কীই বা তার বৈশিষ্ট্য, যে সে এত অনন্য হয়ে ওঠে!
![]()
বাঘ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীতে বাঘের যত উপ-প্রজাতি রয়েছে, সবার চেয়ে ছোট এই সুন্দরবনের বাঘ। কারণ ম্যানগ্রোভ বনে টিকে থাকার মতো শারীরিক কাঠামো করার জন্য বিবর্তনের মাধ্যমে দেহের আকৃতি ছোট হয়ে গেছে তাদের। আকারে ছোট হওয়ায় তাদের ওজনও কম। বিশ্বের অন্যান্য বাঘিনীর ওজন যেখানে গড়ে ৮৫-৯০ কেজি, সুন্দরবনের বাঘিনীর গড় ওজন ৭৫ থেকে ৮০ কিলোগ্রাম।
পাশাপাশি, তাদের বিচরণভূমিও ছোট, ১৫ থেকে ২০ বর্গকিলোমিটার। কারণ সুন্দরবন জুড়ে খাল-বিল, নদী, গাছপালা থাকায় বাঘের চলাচলের জায়গা সীমিত। সেখানে অন্যান্য অঞ্চলের বাঘকে সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচরণ করতে দেখা যায়। সাইবেরিয়ান বাঘের বিচরণভূমি আবার ৫০০ থেকে ১০০০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে, কারণ সাইবেরিয়ায় জায়গার অভাব নেই।
খাবারদাবারের দিক থেকেও সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আলাদা। কারণ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বাঘেরা মূলত গরু, মোষ, সম্বর হরিণের মতো বড় প্রাণী খেয়ে টিকে থাকে। কিন্তু সুন্দরবনের বাঘ হরিণ, শুয়োর ও বানরের মতো ছোট প্রাণী খায়।
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আরও একটি বিশেষত্ব হল এদের পায়ের ছাপ। অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গলের পায়ের ছাপও ছোট। তাছাড়া, হলুদ থেকে হালকা কমলা রঙের গায়ে গাঢ় খয়েরি থেকে কালো রঙের ডোরা এদের আলাদা করে উজ্জ্বল করে তোলে। এদের পেটের রঙ সাদা আর লেজে কালো কালো আংটি রয়েছে।

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দীর্ঘক্ষণ সাঁতারও কাটতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর এক কিলোমিটার নদীপথ অনায়াসে পার হতে পারে তারা। তবে যতই ভাল সাঁতার জানুক, প্রয়োজন ছাড়া কখনও সাঁতরে নদী পার হয় না রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
সব মিলিয়ে এ দেশের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অত্যন্ত চনমনে প্রজাতির বাঘ। তারা ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শিকার ধরে মেরে ফেলতে পারে। এলাকা দখলের লড়াইয়ে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের মধ্যে মারপিট করে তারা। কেউ ময়দান ছেড়ে যায় না। ফলে সংঘর্ষ শেষে এক পক্ষের মৃত্যু অবধারিত।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন সুন্দরবনেই রয়েছে ১০১টি বাঘ। আর বক্সার জঙ্গলে যে পরিমাণ বাঘ ছিল তার থেকে আরও একটি বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এই বিষয়ে বিধানসভায় বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা বলেন, ‘২০১০ সালে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছিল ৭৪টি। ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৭৬। ২০১৮ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৮৮। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০১।’ চার বছর অন্তর বাঘশুমারি হয়। সেখানেই এই তথ্য উঠে এসেছে।