
শেষ আপডেট: 27 March 2024 19:38
সুভাষ চন্দ্র দাশ, সুন্দরবন
দক্ষিণরায় ও বনবিবির মন্দিরে পুজো দিয়ে মধু সংগ্রহ করতে নামলেন মৌলিরা। এবছর মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি বাড়ছে মধুর দামও। যার ফলে খুশি মধু সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকা মৌলিরা।
প্রতিবছর দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন দফতর ও ব্যাঘ্র প্রকল্প মিলিতভাবে মধু সংগ্রহের কাজ করে থাকে। তবে আলাদা আলাদাভাবে অনুমতিপত্র জমা নিয়ে তবেই জঙ্গলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে ব্যাঘ্র প্রকল্পে মধু সংগ্রহের কাজ। বুধবার সুন্দরবনের বন দফতরের অধীনে থাকা জঙ্গলগুলিতে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করল মৌলিরা। বন দফতরের তরফ থেকেই ইতিমধ্যেই ৪৩০ জনকে মধু সংগ্রহের জন্য অনুমতি পত্র দেওয়া হয়েছে। ৯১ টি দলে ভাগ হয়ে জঙ্গলে যাচ্ছেন তাঁরা। এবার বন দফতর এলাকাতে ১০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে মধুর সরকারি দামও। গত বছর কেজিপ্রতি ২৬৫ টাকা দাম থাকলেও এ বছর কেজি প্রতি ৩০০ টাকা দাম ধার্য করা হয়েছে। মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ বাঘের আক্রমণে নিহত হলে দু'লক্ষ টাকা সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে বন দফতর।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন আধিকারিক মিলনকান্তি মণ্ডল জানান, সব মিলিয়ে গত বছর ১৭ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছিল। এ বছরও ১০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হলেও তা যথেষ্ট বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। মধু চুরি রুখতে এবং ডাকাতদের হাত থেকে মৌলিদের রক্ষা করতে বন দফতরে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাঘ্র প্রকল্পে আগামী সপ্তাহে দুটি ধাপে দেওয়া হবে মধু সংগ্রহের অনুমতি পত্র। সজনেখালি এবং বাগনা রেঞ্জ অফিস থেকে এই অনুমতিপত্র পাবেন মধু সংগ্রহকারীরা। বন দফতর এবং ব্যাঘ্র প্রকল্প সকলেই মধুর দাম বাড়ানোয় খুশি সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারীরা। শিবু মণ্ডল, সনাতন সরদার, সুবল সরদাররা বলেন, "জঙ্গলের গভীরে গিয়ে মধু সংগ্রহ করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাই দাম বাড়ায় যথেষ্টই খুশি আমরা। আশা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক মধু সংগ্রহ করতে পারব।"
মধু সংগ্রহ করার পর প্রতিটি নৌকাকে বন দফতরের অফিসে ফিরে আসতে হয়। সেখানে মধু ওজন করে মৌলিদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। মৌলিদের সংগ্রহ করা মধু নির্দিষ্ট দামে কিনে নেয় ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট কর্পোরেশন। পরে তা ‘মৌবন’ নামে খোলা বাজারে বিক্রি করে।