
শেষ আপডেট: 7 November 2023 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে আড়াইশো বছর আগের কথা। তখন বছর বছর বন্যা হত, বিদ্যাধরীর জলে ভেসে যেত গ্রামের পর গ্রাম। বন্যায় ফসল নষ্ট হত, ভেসে যেত ঘরবাড়ি। প্রাণহানিও কিছু কম হত না। সেই সময় সুন্দরবনের জঙ্গলে বিদ্যাধরী নদীর পাশেই থাকতেন এক সাধু। জঙ্গলের মঙ্গলের জন্য তথা সুন্দরবনকে বাঁচাতে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন কালীপুজো। সেই কালীপুজো পরবর্তীকালে অরণ্যকালীর পুজো নামে পরিচিতি পেয়েছে। আড়াইশো বছরের প্রাচীন সেই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গায়ে কাঁটা দেওয়া ইতিহাস। শোনা যায়, শ্যামাপুজোর রাতে প্রতি বছর হাজির হন খোদ দক্ষিণরায়। শুধু তাই নয়, সেই পুজোর এক সপ্তাহ আগে বিসর্জন হয় পুরনো প্রতিমা।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সুন্দরবনের হাড়োয়া ব্লকের শালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খলিসাদি গ্রামে অবস্থিত এই অরণ্যকালীর মন্দির। সেই গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে বিদ্যাধরী নদী। আগে নাকি বছর বছর বিদ্যাধরীর জল উপচে ভাসিয়ে দিত আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই বন্যার হাত থেকে বাঁচতেই শুরু হয়েছিল অরণ্যকালীর পুজো। নদীর পাশেই থাকতেন এক সাধুবাবা। তিনিই প্রথম সুন্দরবনকে বাঁচাতে শুরু করেছিলেন কালীপুজো, যজ্ঞ। তারপর একটু একটু করে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে একটি মন্দির, যেটি বর্তমানে অরণ্য কালীবাড়ি নামে পরিচিত।
পরবর্তীকালে এই পুজোর দায়িত্ব গ্রামেরই ভট্টাচার্য্য পরিবারের হাতে হস্তান্তর করে গ্রামবাসীরা। তখন থেকেই ভট্টাচার্য্য পরিবারই এই পুজোর দেখাশোনা করে আসছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এখানকার মা কালী খুবই জাগ্রত, মন থেকে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। আর তার জন্যই শক্তির আরাধনায় মেতে ওঠেন স্থানীয়রা।
কথিত আছে, একসময় শ্যামা পূজার রাতে এই মন্দিরে আসত বাঘ। তাই বাঘের আতঙ্কে অমাবস্যার রাতে মায়ের আরাধনা করেই যে যার বাড়ি ফিরে যেত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আরও একটি রীতি জড়িয়ে রয়েছে এই পুজোর সঙ্গে। শ্যামা পূজার দিন যে মূর্তি স্থাপিত হয়, তার পুজো সারা বছর ধরে করা হয়। আবার ঠিক শ্যামা পূজার এক সপ্তাহ আগে বিসর্জন দেওয়া হয় সেই পুরনো প্রতিমার।
পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে চলে তামার ঘটে পুজো। ততদিন আবার প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন প্রতিমা। শ্যামাপুজোর দিন সেই মূর্তি পুজো করার পাশাপাশি প্রতিবছর পূজা উপলক্ষে প্রচুর পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। পাশাপাশি চালকুমড়ো শসার মতো ফলও বলি দেওয়া হয়। খিচুড়ি ভোগ তৈরি হয়। পুজো উপলক্ষে এই কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে বহু দূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীদের আগমন ঘটে সুন্দরবনের এই খলিসাদি গ্রামে।