
দূষণ বাড়ছে সুন্দরবনে।
শেষ আপডেট: 8 May 2024 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণ বাড়ছে সুন্দরবনে। রাজনৈতিক তরজায় সুন্দরবনের আকাশে বাতাসেও বারুদের গন্ধ। বিষবাষ্পে শুকিয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যই বিগড়ে যাচ্ছে।
'বাঁচলে সুন্দরবন, তুমিও বাঁচবে।' তারা উপকূলরক্ষী, সুন্দরবনের রক্ষকও বটে। ম্যানগ্রোভদের বিশাল বাহিনী গড়তে না পারলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বারে বারেই সঙ্কটে পড়বে। বিগত কয়েক বছরে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের দাপট সেটা হাতেনাতে প্রমাণ করে ছেড়েছে। প্রাকৃতি দুর্যোগ থেকে নদীবাঁধকে রক্ষা করতে তাই ম্যানগ্রোভ গাছের চারা রোপণেই বেশি জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরে লণ্ডভণ্ড সুন্দরবনে পাঁচ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য বন দফতর। তারপর ধাপে ধাপে ম্যানগ্রোভ বসানোর কাজ হয়েছে।
কিন্তু শুধু ম্যানগ্রোভ লাগালেই কি সুন্দরবন বাঁচবে?
কানপুর আইআইটি ও কলকাতার বোস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, সুন্দরবনের বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণও বেশি। তাই এখন, দূষণ জর্জরিত সুন্দরবনকে বাঁচাতে নতুন স্লোগান তোলা হয়েছে 'বাঁচলে সুন্দরবন, তুমিও বাঁচবে।'
পরিবেশবিদেরা বলেছেন, ম্যানগ্রোভের জঙ্গল ঝড়ের ঝাপটা ঠেকাতে ঢালের মতো কাজ করে। এই উদ্ভিদ তাদের শিকড় মাটি আঁকড়ে রাখে। ফলে বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে ভূমিধসের সম্ভাবনা কম থাকে। বন দফতরের অভিজ্ঞ অফিসারেরা জানাচ্ছেন, চারা লাগালেই যে পরের বছর তার সুফল মিলবে, এমন নয়। চারাগুলি বড় হলে তবেই তারা ঝড় ঠেকাতে বা বাঁধ রক্ষা করতে পারবে। আর সেই সঙ্গেই জরুরি দূষণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমানো না গেলে আগামী দিনে গোটা ম্যানগ্রোভ অরণ্যই ধ্বংসের মুখে চলে যাবে।