দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবারই প্রকাশিত হল বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’। যার ওয়েব অ্যাড্রেস www.sukhopath.in। গ্রাহক হয়ে এই মাসিক পত্রিকাটি পড়ার সুযোগ মিলবে। সুখপাঠের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সুখপাঠের পথচলার শুরুতে তাঁর বলা কথাগুলি ভরসা বাড়িয়েছে অনেকটাই।
অনির্বাণ প্রথমে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল পত্রিকা বিষয়টি একেবারেই বিরল কিছু না হলেও, একটা বিশেষ সময়ে বিশেষ কারণ অনেকটাই আশা বাড়িয়েছে এই সদ্যোজাত সুখপাঠ পত্রিকা। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনির্বাণ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত বুলবুল সিনেমাটির কথা।
অতি-আলোচিত সেই সিনেমায় ব্যবহৃত একটি গানের কারণে উত্তর ভারত ও দেশের বাকি অংশ থেকে একটা সমালেচনার ঝড় উঠেছে। কারণ সিনেমায় পাওলি দাম গান গাইছে, "ও কি ও, কলঙ্কিনী রাধা, কদম গাছে বসিয়া আছে কানু হারামজাদা।" এখন রাধাকে কেন কলঙ্কিনী ও কানুকে কেন হারামজাদা বলা হয়েছে, এই নিয়ে বিপত্তি ঘটে গেছে সম্প্রতি।
অনির্বাণের কথায়, "এই উদাহরণটা দিলাম শিল্প, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তার প্রতি এই তর্কহীন আক্রমণের কথাটি বোঝাতে। এই আক্রমণ খুব সংগঠিত ও শক্তিশালী। এখন সুখপাঠের মতো সাহিত্যপত্রিকাগুলিকে এর বিপরীতে মুক্তচিন্তার অবকাশটাকে আরও সংগঠিত করতে হবে। সমস্ত গণমাধ্যমের নিজস্ব অ্যালগরিদম থাকে। ফলে মুক্তচিন্তার বহু লেখাই ছড়িয়েছিটিয়ে যায়, একত্রিত হয়ে পৌঁছয় না।"
সেই জায়গা থেকেই হয়তো সুখপাঠের ওপর ভরসা রাখতে চান অনির্বাণ। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, সুখপাঠের মতো ম্যাগাজিনের দ্বারা সাহিত্যের মাধ্যমে মুক্তচিন্তার অবকাশ বাড়াতে পারলে, তবেই তা ভাল হবে। নইলে আমাদের অন্ত্যজ ও লোকজীবনের হৃদয় থেকে উঠে আসা সব কিছু নিয়েই প্রতিবাদ বা আপত্তি আসতে পারে। ফলে আমার মনে হয়, এই ডিজিটাল পত্রিকায় অনেক লেখক, মুক্তচিন্তার সমর্থনকারী ও সুচিন্তকরা জড়ো হবেন। আমাদের মুক্তচিন্তার যে ঐতিহ্য তা রক্ষা পাবে।"
পাশাপাশি দর্শক-শ্রোতাদের অনুরোধে অনির্বাণ তাঁরই লেখা কয়েকটি পংক্তিও পাঠ করে শোনান।
"তুমি নিয়ে নাও রোদ পড়ে আসা বারান্দার বিকেল, তুমি নিয়ে নাও লডা়ইতে হেরে আসা উদাসীন সাইকেল।
তুমি নিয়ে নাও চোখের কালিতে যতটুকু বিপ্লব আছে, তুমি নিয়ে নাও চটির বালিতে যতটুকু রাস্তা বাঁচে।
তুমি নিয়ে নাও যত কালোতর রাত, ধূসরতম দিন। দয়া করে প্রভু, দয়া করে তুমি দিয়ে যাও আমাকে বিষাদের ভ্যাকসিন।"
সকলেই হাততালি সহযোগে স্বাগত জানান অনির্বাণের বক্তব্যকে। মুক্তচিন্তার অবকাশের দরজা আরও প্রসারিত করা নিয়ে অনির্বাণের যে মতামত, তা নিঃসন্দেহে ভাবনার খোরাক জোগায় এই সময়ে।