
সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 6 April 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, ধাতব অস্ত্র ছাড়াই হাওড়ায় (Howrah) রামনবমীর (Ramnavami 2025) মিছিল করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই অঞ্জনিপুত্র সেনা মিছিলের আয়োজন করে। তাতে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। সেই মিছিল থেকে বিরোধীদের কার্যত হুঙ্কার দিলেন তিনি। বললেন, অতীতে যারা তাঁদের মিছিলে বাধা দিয়েছিল, আজ তাঁদেরই বুকের ওপর দাঁড়িয়ে রামনবমী পালন করছেন তাঁরা!
সকাল থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্তে রামনবমীর মিছিল বেরিয়েছে। বহু জায়গায় ধাতব অস্ত্রের সঙ্গে প্লাস্টিকের অস্ত্রও দেখা গেছে। এছাড়া খেলনা বন্দুকও রয়েছে অনেকের হাতে। সব মিলিয়ে রবিবার কার্যত গেরুয়া রঙে ছেয়ে গেছে রাজ্য। অনেক জায়গার মতো হাওড়াতেও রামনবমীর মিছিল হয় এবং তাতে যোগ দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। গতবার এই অঞ্চলে মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, ''গতবার যারা পাথর মেরেছিল, এবার তাদের বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে আমরা রামনবমী করেছি। আমাদের যারা বাধা দেবে তাদের উচিত শিক্ষা এভাবেই দেওয়া হবে।''
এবার তৃণমূলকেও রামনবমী পালন করতে দেখা গেছে। কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে শওকত মোল্লা মিছিলে হেঁটেছেন। সেই প্রসঙ্গে সুকান্তর কটাক্ষ, ''ভোটব্যাঙ্কের জন্য রামনবমী পালন করতে হচ্ছে শাসক শিবিরকে। এমনি সময় তো জয় শ্রীরাম স্লোগানে তাঁদের সমস্যা হয়। তবে আমরা শুরু থেকেই হিন্দু এবং রামনবমী পালন করে আসছে।'' বিজেপি নেতার কথায়, তিনি পাগল হিন্দু! যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, প্রতিবছর রামনবমী পালন করবেন।
রামনবমী নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চাপানউতোর চলছে রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে। মিছিলে অনুমতি নিয়েও পারদ কম চড়েনি। এই পরিস্থিতিতে একাধিক শর্ত লাগু করে মিছিলে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে নবান্ন থেকেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগেই জানা গেছিল, রাজ্যে অনুমোদিত মিছিলের সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। তারপরও জেলায় জেলায় অনেক ছোট-বড় মিছিল রয়েছে। তাই পুরোপুরি সতর্ক রাজ্য প্রশাসন।
সুকান্ত অবশ্য পুলিশের ওপর বিশেষ ভরসা রাখতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুলিশ আমাদের থামাতে চায়। অথচ আমরা দেশের আইন মেনেই চলি। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই মিছিল হচ্ছে। তবুও অনেক জায়গায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করেছে তাঁদের।'' তাঁর অভিযোগ, সরকার সবসময় রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করে।