
শেষ আপডেট: 24 December 2023 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার কলকাতার ব্রিগেডের মাঠে গীতা জয়ন্তীতে লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের তরফে। আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও পরে তিনি তা বাতিল করেন। তারপর ব্রিগেডে 'লক্ষ কণ্ঠ' আদৌ ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মাঝেই শুরু নতুন বিতর্ক। গীতা পাঠ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান করেছেন, এমন দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই সুকান্তের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে শাসক দল। সেই ক্ষমা চাওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এদিন সুকান্ত বলেন, "বাংলা দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্ম ও ভক্তি আন্দোলনের পীঠস্থান। তবে মাঝে বামপন্থীদের আন্দোলনের কারণে বাংলা কিছুটা বেসামাল হয়ে গিয়েছিল। অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। যারা বলেছিল ফুটবল খেলা গীতা পাঠ অপেক্ষা ভাল, তারা বামপন্থী প্রোডাক্ট।" রাজ্য বিজেপির সভাপতি আরও বলেন, এবার থেকে বাংলা সঠিক পথে যাবে, আজ রবিবার থেকেই তার সূচনা হল।
সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বামীজীর বাণীর অপব্যাখ্যা করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা এবং তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
কুণালের দাবি, সুকান্ত বিবেকানন্দের এই বাণীর অভিমুখ এবং অর্থ কিছুই বোঝেননি। "স্বামীজি গীতা ও ফুটবল খেলা নিয়ে যে কথা বলেছিলেন তার সঙ্গে গীতাকে অপমান করার কোনও প্রশ্ন নেই। কেন তিনি এটা বলেছিলেন সেটা উনি যদি বুঝতেন, তাহলে বিজেপির মতো গরুর পার্টি করতে যেতেন না," দাবি কুণালের।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী শশী পাঁজাও। তাঁর বক্তব্য, যুব সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সবল রাখার জন্যই ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়েছিলেন স্বামীজি। সেটা না বুঝে স্বামীজিকে অপমান, অসম্মান করেছেন সুকান্ত। তিনি একা নন, বিজেপি এমনটা বারবার করে তাকে বলে দাবি তাঁর।
রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং পার্থ ভৌমিকও বিজেপি নেতার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইতিহাস না জেনেই সুকান্ত হিন্দু ধর্ম প্রচারকদের অসম্মান করেছেন বলে দাবি পার্থের। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বাংলায় মনীষীদের প্রতি বিজেপির এই অশ্রদ্ধা বাংলার মানুষ মেনে নেবেন না।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শাসক দল তৃণমূলের তরফ থেকে সুকান্ত মজুমদারকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁকে এই বক্তব্যের জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির।