
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিন চেয়ে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে বড় প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আদালত সূত্রের খবর, জেলে গিয়ে জেরা করার অনুমতি নিয়েও কেন এতদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জেরা করেনি, এদিন কলকাতা হাইকোর্টে সেই প্রশ্নও তুলেছেন কালীঘাটের কাকু। এ ব্যাপারে আদালতেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
আদালত সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফের কালীঘাটের কাকুকে সশরীরে সিবিআইয়ের স্পেশাল আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে গিয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ৩০ মে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর থেকে বারেবারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে। নিয়োগ দুর্নীতির জট খুলতে তাঁর ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক ভয়েজ ক্লিপিং এর সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চান তদন্তকারীরা। সেজন্য আদালতে আবেদন জানান তাঁরা। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে অনুমতি মিললেও এসএসকেএমের তরফে জানানো হয়, কালীঘাটের কাকুর শারীরিক অবস্থা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পরীক্ষা করা যাবে না।
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে গত ৪ জানুয়ারি জোকা ইএসআই হাসপাতালে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের ‘ভয়েস স্যাম্পেল টেস্ট’ হয়। তাঁর গলার স্বর ডিজিটালি রেকর্ড করে রেখে দেখা হয় ফোনে কথোপকথনের যে অডিও সামনে এসেছে সেই গলা আর কাকুর গলা এক কিনা।
এরপরই গত ২৪ এপ্রিল নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে সুজয়কৃষ্ণকে জেলে গিয়ে জেরা করতে চায় সিবিআই। এই মর্মে কলকাতার বিচার ভবনে বিশেষ আদালতে আবেদনও জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের অনুমতির পরও সিবিআই তাঁকে কেন এতদিন জেরা করেনি সেই প্রশ্নই তুলেছেন সুজয়কৃষ্ণ ওরফে কালীঘাটের কাকু।
আইনজ্ঞদের মতে, ইডির পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই যেভাবে গ্রেফতার করেছে, একইভাবে সুজয়কৃষ্ণকেও গ্রেফতার করা হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ।