
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।
শেষ আপডেট: 10 December 2024 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অলরেডি অ্যারেস্টড। তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের অনুমতির দরকার নেই!', মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে আদালতে এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডির মামলা থেকে জামিনে পেয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। তবে এখনও জেল মুক্তি ঘটেনি। উপরন্তু সুজয়কৃষ্ণ জামিন পাওয়ার পরই সিবিআইয়ের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, 'উনি ইডি কেসে জামিন পাওয়ার পরেই আপনারা প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন জানালেন ? হঠাৎ কী এমন প্রয়োজন হয়ে গেল যে এখনই গ্রেফতার করতে হবে?'
জবাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী আদালতকে জানান, সুজয়কৃষ্ণ অলরেডি অ্যারেস্টেড। আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী এও বলেন, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বিরুদ্ধে যে তথ্য রয়েছে, তাতে কোনও মতেই হঠাৎ আমরা তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও তদন্ত করছি না।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ৩০ মে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর থেকে বারেবারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে। নিয়োগ দুর্নীতির জট খুলতে তাঁর ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক ভয়েজ ক্লিপিং এর সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চান তদন্তকারীরা। সেজন্য আদালতে আবেদন জানান তাঁরা। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে অনুমতি মিললেও এসএসকেএমের তরফে জানানো হয়, কালীঘাটের কাকুর শারীরিক অবস্থা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পরীক্ষা করা যাবে না।
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে গত ৪ জানুয়ারি জোকা ইএসআই হাসপাতালে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের ‘ভয়েস স্যাম্পেল টেস্ট’ হয়। তাঁর গলার স্বর ডিজিটালি রেকর্ড করে রেখে দেখা হয় ফোনে কথোপকথনের যে অডিও সামনে এসেছে সেই গলা আর কাকুর গলা এক কিনা।
এদিকে চার বার আদালতে সিবিআইয়ের জেরা এড়ানোয় সুজয়কৃষ্ণকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এর বিরুদ্ধে এদিন আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণর আইনজীবী। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের তরফে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।