
শেষ আপডেট: 27 February 2024 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ বছর আগে ঘটনা। তখন এপ্রিল মাস। এই সময়ে সাধারণত কলকাতা থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়ার হিড়িক থাকে। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন অবশ্য প্রমোদ ভ্রমণে যায়নি। সহযোগী দেবযানীকে নিয়ে কাশ্মীরের গুলমার্গের একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিল সুদীপ্ত। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছিল, পাছে ধরা পড়ে যায়, তাই বিমানে যাননি সুদীপ্ত-দেবযানী। কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল সুদূর কাশ্মীরে।
সুদীপ্তকে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করার ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার এখনও বড়াই করে। সোমবার সন্দেশখালির নেতা শাহজাহান শেখকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গে ফের সুদীপ্তকে গ্রেফতারের কথা তুলে এনেছেন শাসক দলের কর্তারা। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, কলকাতা পুলিশ অত্যন্ত দক্ষ। সুদীপ্তকে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করতে পারলে শাহজাহানকে পাকড়াও করা কোনও ব্যাপারই নয়। ৭ দিনের মধ্যে শাহজাহান গ্রেফতার হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন শাসক দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
কুণাল এই দাবি করতেই শাহজাহানকে নিয়ে কৌতূহল ও রহস্য দুইই যেন ঘনীভূত হয়েছে। ওই ডেডলাইনের পর ইতিমধ্যে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। হাতে রয়েছে আর ৬ দিন। এর মধ্যে শাহজাহান শেখকে কোথা থেকে গ্রেফতার করা হবে তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
তার বাড়িতে ইডির হানার পর থেকে শাহজাহান শেখ নিঁখোজ। প্রায় ২ মাস হতে চলল। এরই মধ্যে গোপন ডেরা থেকে বেশ কয়েকবার অডিও বার্তাও পাঠিয়েছে শাহজাহান।
শাহজাহান পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে অনেকে ধারণা করতে শুরু করেছিলেন যে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে পারে। সুন্দরবনের খাঁড়ি পথ তার ভালমতো চেনা। সেই কারণে ইডি লুক আউট নোটিস জারি করেছিল। আবার কেউ কেউ রটিয়ে দিয়েছিল যে শাহজাহান শেখ পুজালির একটা গেস্ট হাউজে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।
রাজ্যের বিরোধীরা দাবি করতে শুরু করেছেন যে কুণালের কথাতেই প্রমাণ, শাহজাহানের হদিশ রয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মঙ্গলবারও বলেন, “শাহজাহান রাজ্য পুলিশের আশ্রয়ে রয়েছে। শাসক দলের উপরতলা ও পুলিশ জানে শাহজাহান কোথায়। বা হতে পারে তারাই লুকিয়ে রেখেছে তাকে। যেখান থেকে গ্রেফতার দেখানো হবে, হতে পারে সেখানে আদৌ যায়নি সন্দেশখালির ওই অত্যাচারী নেতা।”
শাহজাহানের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্ট সোমবারই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। উচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শাহজাহানকে গ্রেফতারে কোনও বাধা নেই। তার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল বা মহিলাদের উপর অত্যাচারের যে অভিযোগ রয়েছে তার ভিত্তিতে পুলিশ চাইলে তাকে গ্রেফতার করতেই পারে।
এই ঘোলা জলের মধ্যে মঙ্গলবার আরও একটা চিঠি ভেসে উঠেছে। শাহজাহান শেখকে দ্রুত গ্রেফতারের ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। অনেকের মতে, শাহজাহান শেখের গ্রেফতার এখন যে সময়ের অপেক্ষা মাত্র তা বোঝা যাচ্ছে। এই অবসরে হয়তো রাজভবন দেখাতে চাইছে যে সার্বিক ভাবে চাপের মুখে পড়ে শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার।
তবে কৌতূহল এখন একটাই সন্দেশখালির বাঘ বেরোবে কোন গুহা থেকে?