
শেষ আপডেট: 13 April 2023 06:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের (Bihar) মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এখন দিল্লিতে। নীতীশ শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানীতে কাটিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবেন। বুধবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় দিল্লির (Delhi) মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছেন জনতা দল ইউনাইটেডের নেতা। কংগ্রেস তাঁকেই বিরোধী দলগুলির মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলার কাজে এগিয়ে দিয়েছে।
আর এমন সময়ই বুধবার রাতে দিল্লি গিয়েছেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা হিন্দুস্থানী আওয়াম মোর্চার সভাপতি জিতন রাম মাঝি। বৃহস্পতিবার তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Minister) অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। বিহারে মহাজোট সরকারের শরিক দলের এই শীর্ষ নেতার আচমকা দিল্লি সফর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাতে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে নীতীশের সঙ্গে মাঝির তিক্ততার সম্পর্ক। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে বর্তমানের সমালোচনা বিহারে বিজেপির হাত শক্ত করছে বলে আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিহারে মাঝির দল খুব বড় শক্তি না হলেও জাতপাতের অঙ্কে অনেক আসনেই তাঁর প্রভাব প্রশ্নাতীত। গয়ার বাসিন্দা মাঝি জাতিতে মুসহর সম্প্রদায়ের মানুষ। ২০১৩-তে নীতীশ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে সাময়িকভাবে মাঝিকে বসিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তখন জনতা দল ইউনাইটেডের রাজ্যস্তরের নেতা। বছর পেরনোর আগে তাঁকে সরিয়ে নীতীশ ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসলে মাঝি নিজের দল গড়ে রাজনীতিতে ভালভাবেই ভেসে আছেন।
তাই শাহের মতো বিজেপির প্রথমসারির নেতা বিহারের এই ছোট দলের নেতার সঙ্গে একান্ত বৈঠককে বড় করেই দেখছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। কারণ, দলিত ও ওবিসি ভোটের লক্ষ্যে বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে ছোট আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে ব্যস্ত। নীতীশের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু উপেন্দ্র কুশওয়া সম্প্রতি জেডিইউ ছেড়ে নিজের দল গড়েছেন। তাঁর পুঁজি নীতীশের কুর্মি, কৈরি ভোট। বিজেপি বিহারে কুশওয়ার দলকে এনডিএ-তে শামিল করতে চলেছে।
নতুন দল গড়ার পথে আর এক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা নীতীশ ঘনিষ্ট আরসিপি সিং। তিনিও বিজেপির সঙ্গী হবেন। হরিজন নেতা রাম বিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই ও ছেলের বিবাদে লোক জনশক্তি পার্টি দু টুকরো হয়ে গেলেও দুই গোষ্ঠীই বিজেপির সঙ্গে আছে। বিজেপির পরিকল্পনায় স্পষ্ট, লালুপ্রসাদ, নীতীশ কুমারের মতো দুই বড় নেতার রাজনৈতিক সাম্রাজ্যে ফাটল ধরাতে ছোট দল ও অখ্যাত নেতাদের পাশে নিয়ে বিহারে পায়ের নিচে মাটি ফেরৎ পাওয়ার চেষ্টায় আছে বিজেপি। মিশন বিহারের দায়িত্ব বর্তেছে অমিত শাহের উপর। তিনি ঘন ঘন বিহার সফরে যাচ্ছেন।