দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুলাইয়ের শেষ থেকে ক্রমাগত বেড়ে চলা বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ১০০র কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে সুদানে। ডুবে গেছে ১লাখেরও বেশি বাড়িঘর। দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘোষণা করেছেন সুদানের কর্তৃপক্ষ।পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় সারা দেশে তিন মাসের জরুরি অবস্থাও জারি করা হয়।
শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকের পর সুদান কর্তৃপক্ষের তরফে এই ঘোষণা করা হয়। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ায় অতি ভারী মৌসুমী বৃষ্টিপাতের ফলে অগস্ট মাস থেকেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে নীলনদের জল ১৭.৫ মিটার বৃদ্ধি পায়, যা সুদানের সেচ মন্ত্রকের মতে এই শতাব্দীর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
মন্ত্রকসূত্রে জানানো হয়েছে, ১৯৮৮ সালের রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে এবছর নীল নদীর জলস্তর। ১৯৮৮ সালের বিধ্বংসী বন্যায় সুদানের বেশ কয়েকটি জায়গায় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। বাস্তুহারা হয়েছিলেন প্রায় দশ মিলিয়ন মানুষ।
সুদানের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী লিনা আল শেখ দুদিন আগেই দেশের ভয়াবহ বন্যাপরিস্থিতির কথা সংবাদমাধ্যমে জানান। বন্যায় ইতিমধ্যেই ১০০র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ৪ জন গুরুতর আহত। সারা দেশে ৫লক্ষেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত। ১০ লক্ষেরও বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ অবধি ভারি় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায়, আগামী সপ্তাহগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সুদান কর্তৃপক্ষ।
গত দুসপ্তাহের বৃষ্টিতেই যথেষ্ট খারাপ অবস্থা রাজধানী খার্তুমের। নীল নদের জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় অনলাইনে এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন। নগরীর বেশ কয়েকটি জেলায় বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যারিকেড তৈরি করেন। আটকে থাকা জল বের করে দেওয়ার জন্য খাল কাটতেও দেখা গেছে স্থানীয়দের। বন্যার ফলে রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে আটকে রয়েছে সাধারণ মানুষেরা। দুর্গত মানুষজনের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং জলমগ্নদের রাজধানী খার্তুমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন সুদান সরকার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউম্যানিটারিয়ান কোঅর্ডিনেশন সংস্থা বা ওসিএইচএর কর্ণধারেরা একটি সমীক্ষার পর জানিয়েছেন করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালীন পরিশুদ্ধ জল পাওয়ার সুযোগ আরও কমছে। বন্যার ফলে প্রায় ২০০০টি পরিস্কার জলের উৎস ইতিমধ্যেই দুষিত হয়ে পড়েছে। ওসিএইচএর তরফে আরও বলা হয় বন্যার ফলে সুদানেই কমপক্ষে ৪৩ টি স্কুল এবং ২,৬৭১টি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সারা দেশের কৃষিজমিগুলির বিরাট অংশও ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণে ফসল।
অন্যদিকে মার্কিন শরণার্থী সংস্থার মতে কয়েক হাজার শরণার্থী এবং বাস্তুহারা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই বন্যায়। শুধু উত্তর দারফুর প্রদেশেই মারা গেছেন ১৫ জন। আরও ২৩ জন নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক কমিটিগুলির কাছে সবরকম সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ওসিএইচএ। ২০১৯ সালেও মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার ফলে জুলাই থেকে অগস্টের মধ্যে সুদানের ১৬টি প্রদেশে মোট ৭৮ জন মারা গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে ২০২০ সালের এই বিধ্বংসী বন্যা।