
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সি
শেষ আপডেট: 6 April 2025 20:24
দ্য ওয়ালে আগেই লেখা হয়েছিল, তৃণমূলের মধ্যে নবীন-প্রবীণে এক নতুন রসায়ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চেহারা ও ছবি এই রসায়নের কারণেই অদূর ভবিষ্যতে বদলে বদলে যেতে পারে। বাংলায় শাসক দলের মধ্যে সেই রসায়ন কতটা আন্তরিক ও গাঢ় হয়ে উঠেছে তার একটা ছবি দুদিন আগে দেখা গেল।
তৃণমূলে অনেকের কাছেই হয়তো খবর নেই, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi) বর্তমানে পূর্ব কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সুব্রত বাবুর মেরুদণ্ডে একটা ছোট সমস্যা ছিল। এ ব্যাপারে চিকিৎসাও চলছিল। আগে থেকেই ঠিক ছিল, ছোট অপারেশনের মাধ্যমে সেটির নিরাময়ের চেষ্টা করবেন চিকিৎসকরা। সেই মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যান সুব্রত বক্সী।
ওদিকে সংসদে ওয়াকফ বিল নিয়ে বিতর্ক ও ভোটাভুটির জন্য হুইপ জারি করে রেখেছিল তৃণমূল। বক্সীবাবু রাজ্যসভার সদস্য। দল হুইপ জারি করলে সদস্যদের বাধ্যতামূলক ভাবেই সভায় থাকতে হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য তিনি যে সংসদে যেতে অপারগ তা দলকে জানিয়ে দেন সুব্রত বক্সী। তাতে সমস্যাও হয়নি।
জানা গিয়েছে, রাজ্য সভাপতির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে সরাসরি ডাক্তারবাবুকে ফোন করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অ্যাপোলো হাসপাতালে সুব্রত বক্সীর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করেছেন ডঃ সঞ্জয় বিশ্বাস। তিনি মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন সার্জারির (MINIMALLY INVASIVE SPINE SURGERY) ব্যাপারে বিশারদ। তাঁকে ফোন করে অভিষেক বলেছেন, “উনি দুদিন পরই বলবেন, তৃণমূল ভবনে যেতে হবে। এই কাজ রয়েছে, ওই কাজ রয়েছে। কিন্তু কোনও কথা শুনবেন না। সম্পূর্ণ সুস্থ না হলে বক্সী জেঠুকে ছাড়বেন না”।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, রাজ্য সভাপতির অসুস্থতার খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক ফোন করেছেন, এর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই বা রাজনীতি নেই। এটা ঠিক। কিন্তু এও স্পষ্ট—অভিষেক ও সুব্রত বক্সীর মধ্যে একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। অভিষেককে নবীন নেতা বলে দেগে দিয়ে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুযোগ করার চেষ্টা করতেন এবং নিজেদের পদ বাঁচানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু দলের প্রবীণ ও নিষ্ঠাবান নেতা সুব্রত বক্সীর সঙ্গে আস্থা ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে একাংশের সেই চেষ্টাতেই এখন জল ঢেলে দিয়েছেন। এবং ক্রমশ এও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গতিশীলতা এই দুজনে মিলেই এখন স্থির করবেন। যা খুব ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠতে পারে।