
সুবোধ সিং- আশা দেবী 'চাচি'
শেষ আপডেট: 11 July 2024 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ছাপোষা চেহারার মাঝবয়সি এক বধূ। দেখে কারও বোঝার উপায় নেই বিহারের গ্যাংস্টার সুবোধ সিংয়ের ডান হাত তিনি। সুবোধ গ্যাংয়ের মাথা। তবে ৪৯ বছরের আশাকে ছাড়াও একরকম অচল ছিল দল। দলে সবাই তাঁকে 'চাচি' বলেই চেনে। সেই চাচিকেই গ্রেফতার করল হাওড়ার পুলিশ। বিহারের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে আশাকে বেগুসরাই থেকে গ্রেফতার করে। এরপরেই হাওড়ায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে।
তদন্তকারীরা জানান, আশা দেবী ওরফে আশা মাহাত সমস্তিপুরের সুবোধের দলকে প্রায় একা হাতে পরিচালনা করতেন। ডাকাতির ছক কষা হয়ে গেলে সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা থেকে অস্ত্র সরবরাহ সবই করতেন এই আশা 'চাচি'। এমনকী দলের সদস্যদের থাকার জন্য ফ্ল্যাটও বুক করতেন এই মহিলা। কোনও রাজ্যে ডাকাতি করতে গেলে ফ্ল্যাট বা হোটেল ঠিক জন্য 'চাচি' নামে পরিচয় দিতেন আশা।
হাওড়ার পুলিশ সুপার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি বলেন, "তবে আশা কোনও ক্রাইম সাইট অর্থাৎ ঘটনাস্থলে থাকত না। বিহারের পুলিশের কাছে তাই চাচি সম্পর্কে তেমন কোনও তথ্য ছিল না।"
পুলিশ জানাতে পেরেছে, সুবোধের সঙ্গে প্রায়ই আশা বিহারের বেউড় জেলে দেখা করতে আসতেন। সেখানেই দুজনে ডাকাতি ও খুনের ছক পরিকল্পনা সেরে নিতেন। বাইরে থেকে তিনিই সুবোধকে সমস্ত তথ্য সরবরাহ করতেন। কীভাবে সমস্তিপুরে লুঠের সোনা নিয়ে আসা হবে, কোন সময়ে, কোন রুটে আনা হবে, সমস্ত কিছুই ঠিক করতেন আশা।
শুধু আশা নয়, হাওড়া ও বিহার পুলিশের যৌথ অভিযানে সুবোধের গ্যাংয়ের আরও চার সদস্য ধরা পড়েছে। ধৃতদের নাম মনীশ মাহাত, রবীন্দ্র সাহানি, বিকাশ ঝা এবং অলোককুমার পাঠক।
বাংলায় পরপর বেশ কয়েকটি সোনার দোকানে ডাকাতি, খুন, তোলাবাজি, হুমকির ঘটনায় জড়িত বিহারের এই গ্যাংস্টার সুবোধ সিং। বিহারের বেউড় জেল থেকে সম্প্রতি তাকে এই রাজ্য নিয়ে আসা হয়েছে। এখন সিআইডি হেফাজতে রয়েছে এই কুখ্যাত অপরাধী। ব্যারাকপুরের এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সুবোধের তিন শাগরেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একাধিক ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে এর আগে বিহার থেকে তিন আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুবোধ ও তার গ্যাংয়ের বাংলায় অপরাধের যোগের কথা জানা যায়। এরপরেই বিহার থেকে এই দাগি অপরাধীকে নিয়ে আসা হয়। এবার তাকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল আশা চাচিকে।