
শেষ আপডেট: 13 December 2023 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বলাগড়ের ডুমুরদহ-নিত্যানন্দপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শেরপুর মাঠ। বুধবার সকালে এখানেই চলছিল দুয়ারে রেশন প্রকল্প। ভিড় করে রেশন নিতে এসেছিলেন গ্রাহকরা। কিন্তু অভিযোগ, তাঁরা রেশন তুলে সেখানেই ফড়েদের হাতে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন চাল,ডাল-সহ অন্য সামগ্রী। এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে সেই দৃশ্য দেখতে পান বলাগড় বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।
চাল আটা বিক্রি হচ্ছে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করেন তিনি। বিধায়কের ফোন পেয়ে বলাগড় থানার পুলিশ এসে কয়েক কুইন্ট্যাল চাল-আটা আটক করে নিয়ে যায়। বিধায়ককে সামনে পেয়ে গ্রাহকরা বলতে শুরু করেন, “চাল আটা অনেকেই বিক্রি করে দেয়। রেশনে দেওয়া জিনিস খাওয়া যায় না। তাই আমরা বিক্রি করে দেই। ফড়েরা কিনে নিয়ে আমাদের টাকা দেয়। সেই টাকায় বাইরে থেকে কিনে খাই।”
শেরপুর মাঠে চাল-আটা কিনছিলেন কাজলি দাস। তিনি বলেন, “রেশন থেকে কোনও মাল কিনি না। গ্রাহকরা রেশন তুলে বিক্রি করে সেটা কিনি। আমি নিজেও তৃণমূল কর্মী। কিন্তু দল থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। আমাকেও খেয়ে বাঁচতে হবে। তাই এই কাজ করি।”
দলের কর্মী রেশনের মাল কিনছে শুনে বিরক্ত হন বিধায়ক। তাঁকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, “দল কি তোমাকে চুরি করতে বলেছে।” বিধায়ক জানান, “কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ পাচ্ছিলেন রেশনের চাল-আটা বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “গরীব মানুষের জন্য রেশন দেওয়া হয়। সেই চাল আটা বিক্রি কেন হবে? আজ শেরপুরে এসে দেখলাম অভিযোগ সত্যি। যদি চাল আটার মান এতই খারাপ হয়, যে না খেয়ে বিক্রি করে দিতে হবে,তাহলে রেশন নেওয়ার দরকার নেই। আমি নিজে এই চাল আটা খাই।”
রেশন ডিলার বাচ্চু মুখোপাধ্যায় বলেন, “রেশন নেওয়ার পর গ্রাহকরা কী করছে সেটা তাদের ব্যাপার। দেখি অনেকেই চাল-আটা বিক্রি করে দেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”