
শেষ আপডেট: 6 January 2024 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিম-ভাত, ডাল-ভাত নয়। পরিবর্তে মেনুতে পিঠে-পুলি। মিড মিলের একঘেয়ে খাবার ছেড়ে এমনই আয়োজন করা হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের জয়রামপুর ত্রিপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর শীতের চাদর গায়ে সেই খাবারের স্বাদ পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ার দল।
পৌষ মাস মানেই পিঠে, পুলির মরশুম। কিন্তু প্রান্তিক এলাকার অনেক পরিবারেরই পিঠে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তাই সেইসব পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে ত্রিপল্লী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পিঠে ও পায়েস রান্নার আয়োজন করে। রোজকার ডাল,ভাত, ডিম, সোয়াবিনের বদলে পড়ুয়াদের পাতে পড়ে নলেন গুড়ের পায়েস আর ভাজা পিঠে। চালের গুঁড়ো, খোয়া ক্ষীর, মুগডাল, মসুরডাল, রাঙা আলু, রিফাইন তেল – এই সমস্ত উপকরণ দিয়ে নারকেলের পুর দিয়ে তৈরি হয় ভাজা পিঠে।
সম্প্রতি ওই অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পড়ুয়াদের পিঠে খাওয়ানোর জমজমাট আয়োজন করা হয়েছিল। পড়ুয়াদের আনন্দ দিতে বিদ্যালয়েই পালিত হয় পিঠে-পুলি উৎসব। হঠাৎ এমন আয়োজন দেখে কচিকাচার মনে উপচে পড়ে খুশি। স্কুলে তারা কেবারে অন্যভাবে দিন কাটায়। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পিঠে-পুলি চেখে দেখেছেন সরকারি আধিকারিক ও শিক্ষকরাও। কচিকাঁচাদের এই আনন্দে সামিল হন স্থানীয় বিডিও এবং বিদ্যালয় পরিদর্শকরাও। এই উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানান সকলে।
যদিও এবারই প্রথম নয়, এর আগেও এই আয়োজন করা হয়েছিল। পড়ুয়াদের বাঙালির ঐতিহ্যের পিঠের সঙ্গে পরিচয় করাতে এবং এলাকার দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের কথা ভেবে ওই স্কুলে নবান্ন উৎসবও স্কুলে পালন করা হয়। কচিকাঁচাদের পাতে পিঠে-পায়েস তুলে দিতে পেরে খুশি মিড ডে মিলের রাঁধুনিরা।
সাম্প্রতিককালে রাজ্যে মিড মিল নিয়ে হাজারো অভিযোগ উঠতে দেখা গিয়েছে। কখনও পচা খাবার, কখনও খাবারের মধ্যে আরশোলা, টিকটিকি। এমনকী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উঠেছে মিড ডে মিলের চাল চুরির অভিযোগও সামনে এসেছে। আর সেইসব খবরের মাঝেই পড়ুয়াদের পাতে পিঠে পুলি দেওয়ায় জয়রামপুর ত্রিপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সকলে।