
শেষ আপডেট: 2 January 2024 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ছাত্রীরা টিসি নিয়ে চলে আসত চুঁচুড়ার সারদামণি স্কুলে। এখানকার দিদিমণিরা তাঁদের ঘষে মেজে তৈরি করত। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফল করে উত্তীর্ণও হত তারা। সেই স্কুলেই কমতে কমতে পড়ুয়ার সংখ্যাটা এখন একশোর নীচে নেমে গেছে। যত জন ছাত্রী আছে তারাও অনিয়মিত। আগামী দিনে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় চুঁচুড়ার মিয়ারবেড় (পিয়ারাবাগান) সারদামণি গার্লস হাইস্কুল। স্কুল বাঁচাতে এগিয়ে এসে প্রাক্তনীরা সাহায্য চাইলেন এলাকার মানুষের। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা।
এই সারদামণি গার্লস হাইস্কুলে পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছেন অদিতি গাইন। তাঁর কথায়, “এই স্কুলের দিদিমনিরা খুবই যত্ন নিয়ে পড়ান। তাঁরাই আমাকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। স্কুলের পরিবেশও খুবই ভালো। তাও কেন ছাত্রী আসে না বুঝি না।” সারদামণি স্কুলে এক সময় সাড়ে তিনশো ছাত্রী ছিল। এখন সংখ্যাটা ৯২। সেই ছাত্রীরাও নিয়মিত স্কুলে আসে না। কারা কারা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তা দেখে ফোন করে স্কুলে ডেকে আনা দিদিমনিদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ডালিয়া মুখোপাধ্যায় হতাশ। তাঁর কথায়, “মোবাইলে রিল বানিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে ছাত্রীদের একাংশ। পরদিন আর স্কুলে আসতে পারে না। অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলেছি বারবার। কিন্তু কাজ হয় না। আমার স্কুলে বেশিরভাগ গরীব মেয়ে পরে। তাদের মধ্যেও মেধা আছে। আমরা চেষ্টা করি আলাদা করে গাইড করতে। কিন্তু সেই সুযোগও তো এখন আর পাই না।”
স্কুলের প্রাক্তনীরা জানান, তারা যখন পড়েছেন স্কুলের শিক্ষিকারাই সব বুঝিয়ে দিতেন। আলাদা করে টিউশন নেওয়ার দরকারই পড়ত না। প্রাক্তনী প্রতিমা সরকার ও সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুন্ডুরা বলেন, “স্কুলের আজ প্রতিষ্ঠা দিবস। বর্তমান প্রাক্তনরা সবাই মিলে নানা অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণা খাওয়া দাওয়া চলল সারাদিন। তবে স্কুলের ছাত্রী সংখ্যা কমছে দেখে খারাপ লাগছে। পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এমনটাতো হওয়ার কথা ছিল না। আমরা চাই স্থানীয় মানুষরা এগিয়ে আসুন স্কুল বাঁচাতে।”
প্রধান শিক্ষিকা ডালিয়াদেবী জানান, ১৯৭৫ সালে স্কুল চালু হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক স্কুলের অনুমোদন পায়। এই স্কুলের শিক্ষিকাদের প্রত্যেকে যোগ্য। তাঁদের দিক থেকে ছাত্রীরা সব রকম সাহায্য পায়। তারপরেও ছাত্রী কমছে। প্রাক্তনীদের অঙ্গীকার কিছুটা ভরসা যোগাচ্ছে তাঁদের।