দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বন্ধু লাগাতার হেনস্থা করেছে বেশ কয়েক দিন ধরে। তার জন্যই তাকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হচ্ছে। নিজের মোবাইল ফোনে এই কথাগুলো ভিডিয়ো রেকর্ড করে গলায় দড়ি দিল কুড়ি বছরের বিপিন বর্মা। ল পড়ছিল সে। বিপিনের বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চার বন্ধুর বিরুদ্ধে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করেছে।
বিপিনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ গাজিয়াবাদের শাস্ত্রী নগরে নিজেদের বাড়িতে বিপিন এই কান্ড ঘটায়। সেই সময়ে বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। বেশ কিছুক্ষণ পরে বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন বিপিন ঝুলছে। ওঁরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে কবি নগরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা বিপিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিপিন গাজিয়াবাদেরই একটি বেসরকারি কলেজে ল-এর থার্ড ইয়ারের ছাত্র ছিল।
বিপিনের জামাইবাবু বিজয় কুমার জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকেই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ বিপিনের দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি পরিবারের লোকদের কাছে জানতে চায়, কেন বিপিন এ কাজ করল সে সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা আছে কি না।
তখন তাঁরা পুলিশকে এ ব্যাপারে কোনও ধারণা দিতে না পারলেও পরে বিপিনের বড় দাদা তার মোবাইল ফোনটা খুঁজে পায়, যেটা লক করা ছিল না। সেটি থেকেই পাওয়া যায় বিপিনের সেই ভিডিয়ো রেকর্ডিং যাতে চার বন্ধুর নাম করে সে বলেছে এরা ১৪ জুন থেকে কী ভাবে তার উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। সম্ভবত আত্মহত্যার ঠিক আগেই বিপিন এটা রেকর্ড করেছিল।
বিপিনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই চার জনের বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারায় মামলা করলেও কাউকে এখনও গ্রেফতার করেনি। নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই চার বন্ধুর মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণীর একটি মেয়েও আছে।
গাজিয়াবাদের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মেয়েটি এসে পুলিশের কাছে বয়ান দিয়ে গেছে যে বিপিন তাকে ক' দিন আগেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, যেটা সে প্রত্যাখ্যান করেছে।