
শেষ আপডেট: 10 April 2023 13:40
শরদ পাওয়ারকে (Sharad Pawar) নিয়ে জোর জল্পনা (speculations) শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (political circles)। বিরোধী শিবির, বিশেষ করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মারাঠি নেতার মন বুঝতে চাইছে। জল্পনা শুরু হয়েছে, মহারাষ্ট্রের এই নেতা আড়াই দশক আগের মতো কোনও বড় পদক্ষেপ করে বসবেন না তো!
কংগ্রেস সূত্রের খবর, দলের কোনও শীর্ষ নেতা কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানাতে পারেন। পাওয়ার চাইলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে তাঁর সঙ্গে একান্তে কথা বলতেও রাজি।
কংগ্রেস নেতৃত্বের ধারণা পাওয়ার এরপর মানহানির ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর বিরোধিতা করে নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।
মোদী পদবীধারীদের চোর বলা রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হয়ে গিয়েছে সুরাত আদালতের রায়ের পর। রাহুলের বিরুদ্ধে ওই মামলা এবং সাংসদ পদ খারিজ হওয়া নিয়ে পাওয়ারের দল এনসিপিও সরব হয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে প্রবীণ এই এনসিপি নেতাকে নিয়েই।
তিনি আচমকা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আদানি ইস্যুতে সংসদের যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবির বিরোধিতা করে গোটা বিরোধী শিবিরকে অস্বতিতে ফেলে দিয়েছেন। পাওয়ারের ওই বক্তব্যের অর্থ তিনি খোলাখুলি বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই জেপিসি গঠনের বিরোধিতা করে এসেছে।
আড়াই দশক আগে এইভাবেই গোটা রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছিলেন পাওয়ার। ১৯৯৯-এ অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১৩ মাসের সরকারের পতন হলে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণনের সঙ্গে দেখা করে। বিজেপি রটিয়ে দেয়, সনিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন।
প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানীরা প্রকাশ্যে দাবি তোলেন, একজন বিদেশিনী দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা তা নিয়ে দেশে বিতর্ক হওয়া দরকার।
ঘটনা হল, ক'দিন পরেই কংগ্রেস ওয়াকিং কমিটির সদস্য শরদ পাওয়ার দলে দাবি তোলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন শুধু একজন ভারতীয়, এই মর্মে কংগ্রেস প্রস্তাব গ্রহণ করুক।
পাওয়ারের পক্ষে দাঁড়ান আরও দুই নেতা মেঘালয়ের পিএ সাংমা এবং বিহারের তারিক আনোয়ার। কালক্ষেপ করেনি কংগ্রেস। সনিয়াকে অসম্মান করায় কংগ্রেস পাওয়ার সহ ওই তিন নেতাকেই বহিষ্কার করলে রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেস বা এনসিপি গঠন করেন তাঁরা।
১৯৯৯ এ লোকসভার অন্তর্বর্তী নির্বাচনে সনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাজপেয়ী, আদাবানিদের বিদেশিনী ইস্যু জোরদার করেছিল পাওয়ারের সেই বিতর্কিত প্রস্তাব এবং নিজের দল গড়ার সিদ্ধান্ত।
কংগ্রেস, এমনকী পাওয়ারের দল এনসিপি নেতারাও আশঙ্কা করছেন, রাহুলের গণতন্ত্র ইস্যু এবং মোদী পদবিধারীদের নিয়ে মন্তব্য নিয়েও এই মারাঠি নেতা বেফাঁস মন্তব্য করে মোদীর হাত শক্ত করতে পারেন। পাওয়ারের সঙ্গে এমনিতেই প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক বেশ ভাল। মোদী একাধিকবার প্রকাশ্যে পাওয়ারের প্রশংসা করেছেন। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশনেও পাওয়ারের সুখ্যাতি করেন প্রধানমন্ত্রী।
মহারাষ্ট্রের এই নেতা মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আপের প্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর যোগ্যতা কোনও ইস্যুই নয়।
২০১৯ - এ রাফাল বিমান কেনার ইস্যুতেও সুর বদলে পাওয়ার সরকার তথা মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী ওই ইস্যুতেই 'চৌকিদার চোর হ্যায়' বলে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছিলেন। পাওয়ারের বক্তব্য ছিল, বিমান কেনায় অনর্থক প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির, বিশেষ করে কংগ্রেস নেতারা চিন্তায় আছেন এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে নিয়ে। সূত্রের খবর, এনসিপির মধ্যেও এই নেতাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। চিন্তায় আছেন শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতারাও। কংগ্রেস, এনসিপি, দুই দলই মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোটে আছে।
এনসিপি নেতাদের বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ পাওয়ারের অবস্থান বদলের কারণে এর আগে দু'বার দল ভেঙেছে। রাফাল বিমান কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্লিনচিট দেওয়ায় দল ছাড়েন তারিক। তার আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে দল ছাড়েন পিএ সাংমা।
মোদীর ডিগ্রি বিতর্কেও ভিন্ন সুর পাওয়ারের, আদানি ইস্যুতে আগেই বেসুরো