মঙ্গলবার কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিএলও-দের অ্যাপে নতুন তিনটি অপশন আনা হল।

মনোজ আগরওয়াল।
শেষ আপডেট: 16 December 2025 21:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনুমারেশন ফর্মের (Enumeration Form) তথ্য ওয়েবাসাইটে আপলোড করার সময়সীমা গত বৃহস্পতিবারই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আজ, মঙ্গলবার কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিএলও-দের অ্যাপে নতুন তিনটি অপশন আনা হল। অর্থাৎ, শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। এরপরও যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ করবে কমিশন।
ভোটার তালিকা (Voter List) যাতে একেবারে ত্রুটিমুক্ত থাকে তার জন্য এসআইআর (SIR) পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক নতুন নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বিএলও, ইআরও, এইআরও বা ডিইও-দের জন্য। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন এডিট অপশন, নট রিক্যোয়ার্ড ফর হিয়ারিং এবং আনম্যাপড। কমিশনের মতে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগের পর্বে নতুন এই নির্দেশ ফলো করলে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
কী নির্দেশ পাঠান হয়েছে?
কমিশন সূত্রে খবর, নতুন যে তিন দফা নির্দেশ পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে আগেই (এনুমারেশন পর্বে) সংশোধন বা এডিট অপশন (Edit) দেওয়া হয়েছিল বিএলও-দের। এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পরেও সেই একই এডিট অপশন আবার দেওয়া হল।
কারণ হিসাবে কমিশনের বক্তব্য, এনুমারেশন পর্বে এমন অনেক ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে যেখানে হয়তো সেই অর্থে বিএলও-দের ইচ্ছাকৃত ভুল তেমন নেই। আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভুল থেকে গিয়েছে। এরফলে যুক্তিগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত যে বিপুল পরিমান সংখ্যা সামনে এসেছে সেটাই নতুন পাঠানো নির্দেশের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশন পরিষ্কার জানাচ্ছে, এটাই শেষ সুযোগ। বিএলও-রা যদি ইচ্ছাকৃত (বা অনিচ্ছাকৃত) কিছু ভুল করে থাকেন, এই পর্বে সেই ভুল শুধরে নিতে হবে। তাই এই এডিট অপশন। এক্ষেত্রে নামের বানান ভুল(যা হয়তো আপাতভাবে চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ফলেও হতে পারে), বয়সের ভুল উল্লেখ, বাবা বা মায়ের নামের ভুল ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে নতুন করে এডিট করে দিতে হবে বিএলও-দের।
পাশাপাশি দ্বিতীয় যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে Not required for hearing অর্থাৎ ছোটখাটো কিছু ভুলের জন্য হয়তো সেই ফর্মটি যুক্তিগত সঙ্গত (Logical discrepancies) তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলা হচ্ছে, কোনও ফর্মে বাবার নামে হয়তো মিডল নেম (middle name) হিসাবে 'কুমার' শব্দটি লেখা হয়নি যা সেই ভোটারের ২০০২ সালের বা ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। ফলে এই ধরনের ফর্ম Father name mismatched তালিকাভুক্ত হয়ে পড়েছে।
আবার হয়তো ফর্ম ডিজিটাইজ করার সময় লিঙ্গ(gender) লেখার সময়েও এমন ভুল হয়ে থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে বিএলও-দের জন্য পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে কমিশন জানিয়েছে এই ধরনের ভুলগুলো দেখে নিয়ে ঠিক করে দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও আর শুনানির জন্য ডাকা হবে না।
তবে তৃতীয় যে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেও যদি অসঙ্গতি থেকে যায় তাদের আনম্যাপড (unmapped) তালিকাভুক্ত করতে হবে। কমিশন মনে করছে নতুন এই তিন দফা নির্দেশ সঠিকভাবে ফলো করলে ইতিমধ্যেই যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ এমন ভোটারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, সেই সংখ্যাটা অনেকটাই নীচে নেমে আসবে।
এর আগে ফর্ম ডিজিটাইজশনের শেষ দিনে বিএলও অ্যাপে একটি ‘অপশন’ (বিকল্প) যোগ করা হয়েছিল, ‘রিভেরিফাই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’। যা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বুথ লেভেল অফিসাররা। সেখানে কোনও ভোটারকে যদি সন্দেহজনক মনে হয়, তা হলে তার তথ্য পুনরায় যাচাই (ভেরিফাই) করতে হবে।
বিএলও-দের একাংশের অভিযোগ ছিল, এনুমারেশন প্রক্রিয়ার শেষ দিন কেন এ সব করা হচ্ছে? রাজ্য সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) দফতর দায় ঝেড়ে জানিয়ে দিয়েছিল, অ্যাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
তারও আগে ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া যখন প্রায় শেষের পথে, তখন বিএলও-দের অ্যাপে ‘ডুপ্লিকেট ইলেক্টর ভেরিফিকেশন’ অপশন যোগ করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে একই নামের একাধিক ব্যক্তিকে বা একই ব্যক্তির একাধিক ভোটার কার্ড চিহ্নিত করার জন্য এই বিকল্প যোগ করা হয়েছিল অ্যাপে।