
শেষ আপডেট: 2 August 2023 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: এর আগে এক চাকরিপ্রার্থীর (Job Seeker) হাতে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার চাকরিপ্রার্থীর গলা টিপে ধরারও অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ওই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এমএলএ হস্টেলে (MLA hostel)।
বুধবার সকালে এমএলএ হস্টেলের বাইরে ধর্নায় বসেন এসএলএসটি-র ২০১৬’র পদপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, চাকরির দাবিতে ৯০০ দিন ধরে চাকরিপ্রার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করে চলেছেন। অথচ এই নিয়ে সরকার বা নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের কোনও হেলদোল নেই। এরই প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে এমএলএ হস্টেলের বাইরে ধর্নায় বসেন এসএলএসটি-র ২০১৬’র পদপ্রার্থীরা। তাঁরা এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবিও তোলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছতেই কিড স্ট্রিট চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাইকিং করে চাকরিপ্রার্থীদের ধর্না তুলে নিতে অনুরোধ করেন পুলিশ কর্তারা। পাল্টা হিসেবে আন্দোলনে অনড় থাকার কথা জানিয়ে দেন চাকরিপ্রার্থীরা। অভিযোগ, তনয়া বিশ্বাস নামে এক চাকরিপ্রার্থীকে ভ্যানে তোলার সময়ে এক মহিলা পুলিশ কর্মী তাঁর গলা টিপে ধরে। ধস্তাধস্তিতে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এমএলএ হস্টেল চত্বরে। আন্দোলনকারীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে এভাবে ভেঙে ফেলা নিন্দনীয়।”
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকজন জানতে চান, “আমরা শিক্ষিত বেকার। নিজেদের হকের চাকরির কথা বলতে এসেছি। আমাদের সঙ্গে চোর, ডাকাতের মতো আচরণ করছেন কেন?” পুলিশ অবশ্য কোনও জবাব দেইনি। পরে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বলেন, “বাবা-মা কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। আমরাও চেয়েছিলাম, স্কুলে পড়াতে। তার পরিবর্তে দিনের পর দিন রাজপথে রাত কাটছে। আমরা তো ভিক্ষার চাকরি চাইনি, নিজেদের যোগ্যতার চাকরি চাইতে এসেছিলাম। সেখানে পুলিশের মার খেতে হচ্ছে।”
গোটা ঘটনাকে ঘিরে বুধবার বেলা ১১টা থেকে রীতিমতো উত্তেজনা তৈরি হয় এমএলএ হস্টেল চত্বরে। বাইরে গেট আটকে আন্দোলনকারীরা। ভিতরে বিধায়কেরা। যার জেরে এদিন বহু বিধায়ক বিধানসভায় পৌঁছতে পারেননি। হস্টেলের বাইরে এমন বিক্ষোভ নিয়ে বিধানসভায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, ' এটা এনকারেজ করা ঠিক নয়। আমি সকালে যখন খবর পেলাম, বিব্রত হচ্ছিলাম। এটা যাতে ভবিষ্যতে না-হয়, দেখব।'
প্রসঙ্গত, এর আগে রবীন্দ্র সদনের এক্সাইড মোড়ে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে চাকরিপ্রার্থী অরুণিমা পালের হাতে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অরুণিমার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহিলা কনস্টেবলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল রাজ্য মহিলা কমিশন।
আরও পড়ুন: কলকাতা যেন ভেনিস, রাতভর বৃষ্টিতে জলে থইথই উত্তর থেকে দক্ষিণ