দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই শহর নিয়ে গর্বের শেষ ছিল না মার্কিন নাগরিকদের। প্রাণপ্রাচুর্যের আলোয় সর্বদা ঝলমল করছে সে। আটলান্টিকের ঘন নীলের পাশে রঙবেরঙের আকাশছোঁয়া উঁচু বাড়িগুলো দেখলে মনে হয়, গর্ব করা সাজে এ শহরের। দিন হোক বা রোত, এ শহরে আলো নেভে না কখনও। সর্বদা ঝলমল করে গোটা শহর।
ছবিটা বদলে গেছে রাতরাতি। এ শহরে এখন মৃত্যুপুরীর স্তব্ধতা। শব্দ বলতে অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন আর শববাহী গাড়ি চলার আওয়াজ। আলো বলতে, সর্বক্ষণ জ্বলছে হাসপাতালগুলোর সমস্ত বিভাগের আলো। আর গন্ধ বলতে স্যানিটাইজারের গন্ধ।
সে শহরের নাম নিউ ইয়র্ক। আমেরিকা জুড়ে ক্রমেই বেড়ে চলা মৃত্যু মিছিলের সবচেয়ে বড় অংশটা বইছে এ শহর দিয়েই। চেনা শহরকে এভাবে বদলে যেতে দেখে ঠিক কেমন লাগছে মানুষগুলোর! নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন নিউ ইয়র্কের এক যুগল। করোনা-আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকা দুই তরুণ-তরুণীর জগৎ এখন থমকে গেছে জানলার চৌখুপীতে। সেখান দিয়েই প্রিয় শহরটাকে দেখছেন তাঁরা। অবশ্য এ শহরে আর দেখার কিছু নেই একের পরে এক লাশের ট্রাক ছাড়া আর কীই বা চোখে পড়ে আলাদা করে!
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা বছর তিরিশের অ্যালিক্স মন্টেলিওন ও তাঁর প্রেমিক মার্ক কজলো। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তাঁরা জানিয়েছেন সেখানকার পরিস্থিতি। জানলা দিয়ে দেখা শহরটা সম্পর্কে মন্টেলিওন বলেছেন, পাখির চোখে দেখছেন নিউ ইয়র্কের একটা বড় অংশ। চোখে পড়ছে কাছেই অবস্থিত 'উইকওফ হাইটস মেডিক্যাল সেন্টার'-এ অজস্র মানুষের আনাগোনা।
সেখান থেকে তাঁরা প্রায়ই শুনতে পাচ্ছেন চিৎকার ও আর্তনাদ, যা থেকে আন্দাজ করা যায় মানুষের অসহায়তা। একইসঙ্গে দেখছেন, গত কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালের বাইরে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শববাহী ট্রাক। একের পর এক মৃতদেহ বেরোচ্ছে, সেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গাড়ি করে।
"প্রথমে হিসেব রাখছিলাম, কত মৃতদেহ বার করা হচ্ছে ওই হাসপাতাল থেকে। আর গুনছি না। একের পর এক মৃত্যুকে এভাবে গোনা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। কিন্তু এটাই তো বাস্তব।"-- বলেন অ্যালিক্স।
এই শহরই এক সময় হাজার তিনেক মানুষের মৃত্যু দেখেছিল। তার পর পেরিয়ে গেছে ১৯ বছর। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ জঙ্গিহানার পরে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মানুষ। কিন্তু এবার ফের রাতারাতি নেমে এসেছে অদৃশ্য ভাইরাসের আক্রমণ। কোনও ভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি, বেড়েই চলেছে অসুখ ও মৃত্যু।
তরুণ দম্পতিও তাই বলছেন, এই একের পর এক মৃত্যুর ছবি বড়ই বেমানান এই শহরে। যে শহর জীবনীশক্তির জন্যই সারা বিশ্বের দরবারে পরিচিত, সে শহর এখন প্রতি প্রহরে মৃত্যু গুনছে।