
শেষ আপডেট: 6 December 2023 20:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রমিককে ভুল বুঝে কমিশনের লোভে করোনার টিকা দেওয়ার নাম করে ভুল বুঝে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে নির্বীজকরণের অস্ত্রোপচার করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুই আশা কর্মীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অস্ত্রোপচারের পর রক্তাক্ত অবস্থায় অমানবিকভাবে তাঁকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল নদিয়ার শান্তিপুর। ঘটনায় রোগীর পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট তলব করল স্বাস্থ্য ভবন।
ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের আরবান্দি ২ নম্বর পঞ্চায়েতের চাঁদরা রায়পাড়া গ্রামের। জানা গেছে, আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মাধব রায় ভিন রাজ্য একটি রেস্টুরেন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এই বছর কালীপুজোর আগে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। রাসের পর আবার কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এলাকার দুই আশাকর্মী দীপালী দেবনাথ এবং সবিতা দেবনাথ মধববাবুকে জানান, তাঁকে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যেতে হবে।
মাধববাবু ভেবে দেখেন, টিকা না নিলে ভিন রাজ্যে কাজ পেতে সমস্যা হতে পারে। তাই তিনি রাজি হয়ে ফুলিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে যান। মাধববাবু ও তাঁর পরিবারের লোকজনের দাবি, এরপর তাঁকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়, যাতে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর কোথায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে কী করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন একটি বটগাছের তলায় বসে রয়েছেন তিনি। নিম্নাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণে ভেসে যাচ্ছিল প্যান্ট। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির লোকজন তাঁকে নিয়ে যান।
এরপরেই বোঝা যায়, তাঁর অন্ডকোষে কিছু অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়েছে। এরপর চিকিৎসার জন্য মাধববাবুকে শক্তিনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মেনকা রায় শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কমিশনের লোভে ওই দুই আশাকর্মী অনুমতি ছাড়াই ভুল বুঝিয়ে তাঁর স্বামীকে নির্বীজকরণের অস্ত্রোপচার করে দিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই দুই আশাকর্মী এলাকায় অনেকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করে চলেছেন।
এই ঘটনায় মাধব রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য কণিকা রায়। তিনি জানিয়েছেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হলে আদিবাসী সমাজ এই ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
তবে এই ঘটনার পর থেকেই ভয়ে ওই দুই আশা কর্মী বাড়িছাড়া হয়ে রয়েছেন বলে দাবি শান্তিপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সহ-সভাপতি কানাই দেবনাথের। এ ব্যাপারে ফুলিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিএমওএইচ চিকিৎসক পূজা মৈত্র জানিয়েছেন, ওই দুই আশা কর্মী মাধব রায়কে কী বুঝিয়েছেন তা তিনি জানেন না। তবে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া বহুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পরেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণেই এই অবস্থা। টাকার লোভে ওই আশাকর্মীরা এমন কাজ করেছেন বলে দাবি ওই এলাকার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তীর।