‘খুব খুশি, বিচারের আরও কাছাকাছি পৌঁছলাম,’ চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি নির্ভয়ার মায়ের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান হারানোর ক্ষতে মলম দেওয়া যায় না। সাত বছরের যে যন্ত্রণা কুরে কুরে খেয়েছে মায়ের মনকে সেখানে কোনও সান্ত্বনা, সহমর্মিতাই যথার্থ নয়। তবুও কিছুটা যেন স্বস্তির হাসি দেখা গেল নির্ভয়ার মা আশা দেবীর মুখে। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবা
শেষ আপডেট: 17 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান হারানোর ক্ষতে মলম দেওয়া যায় না। সাত বছরের যে যন্ত্রণা কুরে কুরে খেয়েছে মায়ের মনকে সেখানে কোনও সান্ত্বনা, সহমর্মিতাই যথার্থ নয়। তবুও কিছুটা যেন স্বস্তির হাসি দেখা গেল নির্ভয়ার মা আশা দেবীর মুখে। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমি খুব খুশি। বিচারের আরও কাছাকাছি পৌঁছলাম।”
মঙ্গলবার নির্ভয়া গণধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দোষী অক্ষয় ঠাকুরের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের বেঞ্চ। অক্ষয়ের ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশন শুনতেই চাননি প্রধান বিচারপতি বোবদে। বরং নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন তিনি। আজ, বুধবার বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চে নতুন করে নির্ভয়া মামলার শুনানি শুরু হয়। সেখানেও অক্ষয় ঠাকুরের সাজা মকুবের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ২০১৭ সালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে কোনও বদল হবে না। নতুন করে ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজনই নেই।
ফাঁসির সাজা রদের আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানো হবে বলে জানান অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং। তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে তিন সপ্তাহের সময়ও চেয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদনে আপত্তি তুলে সলিশিটর জেনারেল তুষার মেটা বলেছেন, প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হয়ে গেলে সাত দিনের মধ্যে আবেদন জানাতে হয়। কাজেই ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানো যেতে পারে। সেই সঙ্গেই সলিশিটর জেনারেল বলেন, এমন অপরাধীর কোনও ক্ষমাই হয় না। এমন নৃশংস মানুষ তৈরি করে স্বয়ং ভগবানও লজ্জিত।
শীর্ষ আদালতের এদিনের রায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে নির্ভয়ার পরিবার। আদালতের বাইরে পা রাখতেই নির্ভয়ার মা আশাদেবীকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। চোখে জল, যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে ধৈর্যের এক কঠিন বাঁধুনী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দৃপ্ত কণ্ঠেই আশাদেবী বলেন, সাত বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। দোষীরা শাস্তি পাবে।
“সাত বছর ধরে পুলিশ-প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরেছি। আদালতের চক্কর কেটেছি। মেয়েটাকে বড় কষ্ট দিয়ে মেরেছিল ওরা। সেই যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন করে আমাদের,” নির্ভয়ার মা আশাদেবীর কথায়, “এমন নিষ্ঠুর অপরাধীদের সাজা মকুবের আর্জির বিরোধিতা করেছি। আজ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমরা খুশি।” শীর্ষ আদালতের রায়ে স্বস্তি পেলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না সন্তানহারা বাবা বদ্রীনাথ সিং। তিনি বলেছেন, দোষীদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। এখন পাটিয়ালা হাউস কোর্ট ফাঁসি কার্যকর করার আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না।