তিন মাস ধরে বেতন মেলেনি! 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'র রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা ধর্ণার পথে
দ্য ওযাল ব্যুরো: আকাশছোঁয়া উচ্চতা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। টিকিট কেটে, তাঁকে রোজ ঘাড় উঁচু করে দেখতে আসেন অসংখ্য পর্যটক। তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর একটি বিশাল মূর্তি তৈরি করে গুজরাত পর্যটনে তথা দেশের ইতিহাসে আলাদা মাত্
শেষ আপডেট: 15 March 2019 12:14
দ্য ওযাল ব্যুরো: আকাশছোঁয়া উচ্চতা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। টিকিট কেটে, তাঁকে রোজ ঘাড় উঁচু করে দেখতে আসেন অসংখ্য পর্যটক। তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর একটি বিশাল মূর্তি তৈরি করে গুজরাত পর্যটনে তথা দেশের ইতিহাসে আলাদা মাত্রা যোগ করার দাবি করেছে সরকার। সূত্রের খবর, এই মূর্তির দৌলতে নাকি দিব্যি ফুলেফেঁপে উঠছে রাজ্যের কোষাগার।
তবে প্রদীপের তলার অন্ধকার চিরকালই সত্য। তাই সর্দার প্যাটেলের 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'র মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নের গ্রাফ লাফিয়ে বাড়লেও, অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বেতনই পাচ্ছেন না স্ট্যাচু অফ ইউনিটি-র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। উপায় না পেয়ে শেষমেশ ধর্ণায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি-র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। নিরাপত্তারক্ষী, মালি, লিফটম্যান, টিকিট চেকার থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজের জন্য কর্মী জোগান দেয় ‘আপডেটার সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামের ওই বেসরকারি সংস্থাটি। তাদেরই এই কাজের বরাত দিয়েছে রাজ্য সরকার।
অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে কর্মীদের বেতন মেটাচ্ছে না সংস্থাটি। ফলে চরম অভাবের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কর্মীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের কছে এই বিষয়ে একাধিক বার সওয়াল করেও কোনও ফল মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়ে ধরনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীরা। এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “মাস গেলে হাজার আটেক টাকা বেতন পাই আমরা। কোনও মতে সংসার চলে। এবারে সেটাও না পেলে খাব কী!“
জানা গিয়েছে, স্ট্যাচুটি দেখভাল করার জন্য বেসরকারি সংস্থাটিকে সরকারি তরফে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ দেওয়া হয় মাসে মাসে। কিন্তু তারা কর্মীদের বেতন মেটাচ্ছে না। বেশির ভাগ কর্মচারীই চুক্তিভিত্তিক হওযার কারণে সে ভাবে খাতায় কলমে প্রতিবাদও করতে পারছেন না তাঁরা। তবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চেষ্টা করছেন কর্মীরা।
এক কর্মীর কথায়, "এক দিকে সরকার বলছে স্ট্যাচুটি থেকে বহু পরিমাণে আয় হচ্ছে, অন্য দিকে স্ট্যাচুর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের এ কেমন দ্বিচারিতা!”
গত বছরের নভেম্বর মাসে বিশ্বের সব চেয়ে উঁচু মূর্তি বানিয়ে নানা মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে মোদী সরকার। তবে তার চেয়েও বেশি বোধ হয় কুড়িয়েছিল সমালোচনা। বিভিন্ন স্তরে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছিল। সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছিল, এই তিন হাজার টাকায় ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে কতটা উন্নয়ন আনা যেত, সেই হিসেবে। কিন্তু কয়েক মাস পরেই সরকার সমালোচনাকারীদের চুপ করিয়ে দিয়ে দাবি করেছিল, এই স্ট্যাচু থেকে অনেক টাকা আয় হচ্ছে।
তার পরেই কর্মীদের এই দুরবস্থার অভিযোগে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল, স্ট্যাচুর কার্যকারিতা।