
সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 25 April 2024 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আদালতের রায়ে চাকরি খুইয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য। মামলা করেছেন চাকরিহারারাও। কীভাবে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি অক্ষুন্ন রাখা যায়, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে রাজ্য।
একই সঙ্গে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য। সূত্রের খবর, এখন থেকে এসএসসি পরীক্ষার ওএমআর শিট ১০ বছর সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কেন?
নিয়োগ মামলায় সোমবার হাইকোর্টের রায় সামনে আসার পর কোনও কোনও মহল মনে করছে, পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট সংরক্ষণ করা থাকলে এভাবে যোগ্যদের চাকরিহারা হতে হত না। সেক্ষেত্রে যোগ্য এবং অযোগ্য বাছাইপর্ব অনেক সহজ হত।
যদিও এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে এসএসসির চেয়ারম্যান জানান, "যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিয়েছিল এসএসসি। গত ১৩ ডিসেম্বর হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। তাতে আদালত সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের ১৮ তারিখ হলফনামা জমা দেওয়া হয়।"
এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একই কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৬ সালের এসএসসির পুরো প্যানেলের মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়। যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়।
পাশাপাশি, প্যানেল বহির্ভূত চাকরিপ্রার্থী যারা নিয়োগ পেয়েছে এবং যারা ব্ল্যাঙ্ক (ফাঁকা) ওএমআর শিট জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাঁদের প্রাপ্ত পুরো বেতন বার্ষিক ১২ শতাংশ সুদ-সমেত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সূত্রের খবর, নবান্ন মনে করছে, পরীক্ষার্থীদের সকলের ওএমআর শিট সংরক্ষণ করা থাকলে এই সমস্যা এড়ানো যেত। তাই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সেই সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা দফতর।
সরকারের একটি সূত্রের দাবি, চাকরিহারা ২৫,৭৫৩ জনের মাইনে আপাতত বহাল থাকবে। ওই সূত্রের দাবি, যেহেতু হাইকোর্টের স্পেশাল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত এব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। ফলে আপাতত চাকরিহারাদের বেতন বন্ধ হবে না।