‘বাঙালির ইতিহাস’ শিক্ষক দিবসে উপহার দিল রাজ্য
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ রবিবার শিক্ষক দিবসে ( Teachers' Day) রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি জেলায় শিক্ষা উদ্যোগে শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষারত্ন সম্মান দেওয়া হয় শতাধিক শিক্ষককে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মূল অনুষ্ঠানটি হয় সল্টলেকে বিকাশভবনে। সে
শেষ আপডেট: 5 September 2021 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ রবিবার শিক্ষক দিবসে ( Teachers' Day) রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি জেলায় শিক্ষা উদ্যোগে শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষারত্ন সম্মান দেওয়া হয় শতাধিক শিক্ষককে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মূল অনুষ্ঠানটি হয় সল্টলেকে বিকাশভবনে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা বর্তমান শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
বিগত বছরগুলির মতো এবারও শিক্ষারত্ম সম্মানের জন্য নির্বাচিত শিক্ষক এবং সেরা স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিদের হাতে একগুচ্ছ বই উপহার দেওয়া হয়। তাতে রয়েছে কবিতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা বিতান, সেরা সত্যজিৎ, বাঙালির ইতিহাস এবং নেতাজি—এ পিকটোরিয়াল বায়োগ্রাফি।
আরও পড়ুনঃ
ব্রাত্য বসুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা, গ্রেফতার ৪০
মুখ্যমন্ত্রীর লেখা কবিতার বই আগেও দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনটি বইয়ের মধ্যে এবারে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হল বাঙালির ইতিহাস বইটি। নীহাররঞ্জন রায়ের লেখা এই বইটি বাঙালি শিক্ষিত সমাজে অত্যম্ত সমাদৃত। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্র, যেমন- শিল্পকলা, প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতিতে অসামান্য নজির সৃষ্টিকারী এই কৃতী বাঙালির সাহিত্যকর্মের কালজয়ী অবদান হল বাঙালির ইতিহাস গ্রন্থটি। প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম শাসনের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের বাঙালির ইতিহাসের একটি সুবিশাল গ্রন্থ বাঙালির ইতিহাস। এটি প্রকৃত অর্থেই বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস বোঝার জন্য একাধারে পথনির্দেশক ও ভিত্তিস্তম্ভ।
এমন একটি বই শিক্ষক দিবসে সরকারি উপহারের তালিকায় থাকার সঙ্গে অনেকই চলতি রাজনীতির সমীকরণের সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করছেন। চার মাস আগে বিধানসভা ভোটের মহারণে বাংলা ও বাঙালির স্বার্থরক্ষাই ছিল রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের প্রচারের প্রধান অভিমুখ। দলের এই লড়াইের চালিকাশক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে বহিরাগত তকমাকে তৃণমূল বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারায়। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থরক্ষার শপথ নিয়েই ২০২৪-এ দিল্লি দখলের লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল। স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর কবিতা বিতানের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস বইটিও।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'