
শেষ আপডেট: 20 June 2019 14:21
যে ছবি উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রবিবার শহরের বাইরে থেকে ধুঁকতে ধুঁকতে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত একটা মেরু ভল্লুক জনবসতিতে এসে পড়েছে। সে কাদা মাখা, জীর্ণ শরীরেরই খাবার খুঁজে চলেছে সব জায়গায়। কখনও আবার ভীষণ ক্লান্ত হয়ে সে মাঝ রাস্তায় শুয়েও পড়ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সাথে কথাও বলেছেন সেই শহরের কর্মকর্তারা। সেখানকারই স্থানীয় শিকার বিভাগের প্রধানদের একজন, আনাতলি নিকোলাইচুক বুধবার সেই ভল্লুকটিকে দেখে বলছেন, সম্ভব হলে আকাশপথে তাকে তুলে তার বাসস্থান অর্থাৎ সুমেরুতে ছেড়ে দিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে।
ওলেগ ক্রাশেভস্কি ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপার্ট। তিনি রয়টার্সকে বলছেন, ভল্লুকটির চোখে জল দেখা যাচ্ছে। যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ লাগছে তাঁর। তিনি বলছেন এই মেয়ে ভল্লুকটিকে দেখে একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না, সে খাবার খুঁজতেই শহরাঞ্চলে এসে পড়েছে, না পথ হারিয়ে এসে পড়েছে! আপাতত তাকে তার পুরনো বাসস্থানে ফেরানো যাবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান ক্রাশেভস্কি।
যাঁরা কিছুদিন আগেই সেখানে গিয়েছিলেন বেড়াতে, তাঁদেরই কেউ কেউ অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বছরের শুরুতেই কয়েক ডজন এই শ্বেত ভাল্লুকের দেখা তাঁরা পেয়েছেন। আর সেই ডজন খানেক শ্বেত ভল্লুক সেবার সুমেরু মহাসাগরে একটি রাশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে হামলাও করেছিল।
স্থানীয় রিপোর্ট বলছে শেষ ফেব্রুয়ারিতেই প্রায় ৫০ টা মেরু ভল্লুককে শহরের নোভা জেমলা দ্বীপপুঞ্জের কাছে দেখা গেছিল। সেখানে স্থানীয়রা বেশ ভয়েই ছিলেন। তাদের বাচ্চাদের বাড়ির বাইরে খেলতেও পাঠাচ্ছিলেন না তাঁরা তখন। সে সময় সেখানে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি মানুষজন তাঁদের অফিসে পৌঁছতেও স্পেশাল যানবাহনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
দিন দিন বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্যই এই শ্বেত ভল্লুকরা তাদের বাসস্থান হারাচ্ছে, খাবার পাচ্ছে না। কারণ মেরু প্রদেশের বরফ গলে যাচ্ছে প্রায় সবই। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা জানাচ্ছে বিশ্বব্যাপী আপাতত ২২ হাজার থেকে ৩১ হাজার মেরু ভল্লুক রয়েছে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে যে হারে বরফ গলে যাচ্ছে মেরু প্রদেশে, ওরা সঙ্কটে পড়ছে, ২০৫০ এ হয় তো এই মেরু ভল্লুক আর থাকবে না বিশ্বে।
আমরা এখনও যদি না বুঝি, তাহলে এসি, ফ্রিজ, যানবাহনের দাপট বাড়বে। আর গাছ কেটে কেটে লম্বা লম্বা প্রাসাদের মতো থাকার জায়গা তৈরি করব। এক এক করে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধে হেরে গিয়ে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাব সকলেই।