দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে কংগ্রেসের ২৩ জন বিশিষ্ট নেতা একটি চিঠিতে হাইকম্যান্ডকে লিখেছিলেন, দলে নেতৃত্ব নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তাতে কর্মীদের মনোবল নষ্ট হচ্ছে। এরপর সোমবার বৈঠকে বসে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। সেখানে দলের বর্তমান সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী স্পষ্ট বলেন, তিনি আর কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী নন। দল যেন নতুন নেতৃত্ব খুঁজে নেয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অবশ্য সনিয়াকেই আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।
এদিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়ার বক্তব্য পাঠ করে শোনান দলের প্রবীণ নেতা কে সি বেণুগোপাল। সনিয়া স্পষ্ট বলেছেন, দল এবার অন্য সভাপতি খুঁজে নিক। একটি সূত্রে জানা যায়, এর আগে ঘনিষ্ঠ মহলেও তিনি বলেছেন, তাঁর ছেলে রাহুল দলের সভাপতি পদ ছাড়ার পরে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে তাঁকে সভানেত্রী করা হয়েছিল। এবার দলের উচিত গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে বসানো।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে দু'টি সম্ভাবনা আছে। রাহুল যদি সভাপতির পদ নিতে রাজি না হন, তাহলে সনিয়াকেই আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী করে রাখা হবে। তারপরে কংগ্রেস নেতারা গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে দলের শীর্ষপদে বসানোর জন্য মনোনীত করবেন।
গত ৭ অগাস্ট বিক্ষুব্ধরা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে চিঠি দেন। চিঠির নীচে সই করেছিলেন কংগ্রেসের কয়েকজন প্রথম সারির নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তানখা ও আনন্দ শর্মা। চিঠিতে লেখা হয়েছে, কংগ্রেস যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী। গান্ধী পরিবারকেও সেই নেতৃত্ব মেনে চলতে হবে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
ওই চিঠি ফাঁস হওয়ার পরেই কংগ্রেসে গুরুতর মতবিরোধ দেখা যায়। কংগ্রেসের চারজন মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি চিঠি লিখে সনিয়া গান্ধীকে নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করেন। প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা অমরিন্দর সিং, ভূপেশ বাগেল ও সিদ্দারামাইয়া বলেন, "সনিয়া গান্ধী যতদিন চান ততদিনই কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে থাকতে পারেন। তাঁর পরে ওই পদে আসবেন রাহুল গান্ধী। কারণ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা তাঁর আছে।"
অনেকের ধারণা, রাহুল যাতে ফের কংগ্রেস সভাপতি না হতে পারেন, সেজন্যই 'বিদ্রোহীরা' চিঠি লিখেছেন। রাহুলকে সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধররে জোর চেষ্টা চলছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে। রাহুল অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর কংগ্রেসের শীর্ষপদে ফিরছেন না।