
শেষ আপডেট: 10 December 2023 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মাফিক ওই বছরে নিয়োগ হওয়া সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নোটিস দিতে চলেছে শিক্ষা দফতর। ডিআই মারফত প্রথমে প্রধান শিক্ষকদের কাছে নোটিস যাবে। তারপর সেই নেটিস চাকরি প্রাপকদের দেওয়া হবে।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় চাকরি পাওয়া সকলকে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে বলা হবে, এই মামলা সম্পর্কে যদি তাঁদের কিছু বলার থাকে, তবে তাঁরা সে কথা আদালতে এসে জানাতে পারেন। কোর্টের নির্দেশ মতো এবার সেই নোটিসই পাঠানো হবে। এসএসসি সূত্রের খবর, প্রতিটি স্কুলে চাকরি প্রাপকদের নামের তালিকা তৈরির পর প্রধান শিক্ষকরা একটি বয়ানে স্বাক্ষর করবেন। যেখানে প্রধান শিক্ষক লিখবেন যে তাঁর স্কুলে ওই তালিকাভুক্তরা বাদে ২০১৬ সালে যোগদান করা অন্য কোনও শিক্ষক কিংবা শিক্ষাকর্মী নেই।
এসএসসি সূত্রের খবর, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের কাছে নোটিস পৌঁছবে। ওই দিনই সরকারি তথ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের তালিকা তৈরি করবেন ডিআই। ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর তারিখ স্কুলের নোটিস বোর্ডে ২০১৬ সালের চাকরি প্রাপকদের নামের তালিকার নোটিস ঝোলানো হবে। এরপর ১৩ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের হাতে নোটিস পৌঁছবে। সেক্ষেত্রে কেউ স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর বাড়িতে নোটিস পাঠানো হবে। ১৫ তারিখের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রিপোর্ট দেবেন ডিআইকে। এরপর ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ডিআই-এর রিপোর্ট জমা পড়বে।
কিন্তু হঠাৎ এমন নোটিস কেন? আসলে ২০১৬ সালের এসএসসির নিয়োগে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে নবম-দশমে নিয়োগ হয়েছিল ১১, ৫২৫ জনের, একাদশ-দ্বাদশ ৫৫০০ জনের। এছাড়া, গ্রুপ সি-তে ৪৪৮৭ এবং গ্রুপ ডি বিভাগে ২০৩৭ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল । কিন্তু এই নিয়োগেই অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ২০১৬ সালের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের সমস্ত শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার ৫৪৯ জন কর্মী চাকরি পেয়েছিলেন । হাইকোর্ট তাঁদের সকলকে অবিলম্বে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, নোটিস পেয়ে তাতে স্বাক্ষর না করলে চলতি মাসের বেতনই পাবেন না ওই ২৩,৫৪৯ কর্মী।