
এসএসসি দুর্নীতি মামলা।
শেষ আপডেট: 23 April 2024 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় করা রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুলে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। টেট (প্রাথমিক স্কুল) এবং এসএসসি-র (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক) দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে অভিযোগ। টেট মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সোমবার এসএসসির চাকরি বাতিলের মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই রায়ে ২০১৬ সালে এসএসসি নিয়োগের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করেছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
সোমবার এসএসসি মামলার রায় ঘোষণা করেছে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এসএসসির নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে বাতিল হয়েছে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি। আদালত জানিয়েছে, এসএসসি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে। সুদের হার হবে বছরে ১২ শতাংশ। চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে বলেছে আদালত।
কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের নির্দেশে ঠিক কী কী উল্লেখ করা হয়েছে--
১) ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিলের নির্দেশ।
২) ১৭ রকম ভাবে বেআইনি পথে নিয়োগ হয়েছে। জাল ওএমআর শিট, এজেন্সি নিয়োগে কোনও টেন্ডার হয়নি, এসএসসি আসল ওএমআর শিট নষ্ট করেছে।
৩) মিরর ইমেজের নামে যা করা হয়েছে সেটা বেআইনি। আসল ওএমআর শিট পাওয়া যায়নি।সিবিআই এসএসসি সার্ভার থেকে ওই ধরনের কোনও ‘মিরর ইমেজ’ খুঁজে পায়নি।
৪) সোমা দাসকে মানবিক কারণে চাকরি দিয়েছে। মান্যতা দিচ্ছে কোর্ট।
৫) যারা বেআইনি চাকরি পেয়েছে, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে।
৬) এসএসসি মামলার তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। বছরে ১২% হারে সুদ-সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ।
৭) বেআইনি চাকরি পাওয়াদের প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।
৮) বেআইনি ভাগে সুপার নিউমেরিক পোস্ট করে চাকরি পাওয়াদের হেফাজতে নিতে পারবে সিবিআই।
৯) চার সপ্তাহের মধ্যে জেলাশাসকরা বেআইনি নিয়োগ পাওয়াদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরানোর ব্যাবস্থা করবে।
১০) নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে সিবিআইকে।
১১) সুপার নিউমারারি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সিবিআই তদন্ত করবে। কার বা কাদের মদতে এই দুর্নীতি হয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবে সিবিআই।
১২) বেআইনিভাবে কতজন চাকরি পেয়েছে তা নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি এসএসসি। এমনকী রাজ্যকে তাগাদা দিলেও রাজ্য এই ব্যাপারে কোনও তথ্য দেয়নি।
১৩) ওএমআর শিট স্ক্যান ও মূল্যায়ণের জন্য যে কোম্পানিকে বরাত দিয়েছিল এসএসসি তাদের কোনও টেন্ডার হয়নি।
এই রায় প্রসঙ্গে মেধাতালিকায় শীর্ষে থাকা যোগ্য চাকরিজীবীদের পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার দীর্ঘসূত্রে যে শুনানি হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে তাতে বারবার তিনি আদালতে জোরাল দাবি করেছিলেন যে, প্যানেল ত্রুটিপূর্ণ এবং অসঙ্গতি আছে। সেই প্যানেলের মেয়াদ কখনই শেষ হতে পারে না। যতক্ষণ না সেই প্যানেল ত্রুটিমুক্ত করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়। আদালত সেই প্যানেলকে ত্রুটিমুক্ত করে যে শূন্যপদ আছে সেখানে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করুক। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যোগ্য প্রার্থীদেরও যদি চাকরি চলে যায়, তাহলে তাঁদের সামাজিক সম্মানহানি হবে।
পাশাপাশি আশীষ বাবু এটাও জানিয়েছেন, যারা স্বচ্ছ এবং যোগ্য যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন তাদের বেতন এবং সুদ কোনওটাই দিতে হবে না। তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে যারা স্বচ্ছ ভাবে চাকরি পেয়েছিল তারাই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।