
শেষ আপডেট: 22 July 2022 05:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীলঙ্কার (Srilanka) মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশের (Bangladesh) হয়নি। সংসদে এবং অন্যত্র দাবি করেছে সে দেশের সরকার। জানিয়েছে, সরকারের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট জোগান রয়েছে। এই মুহূর্তে বিদেশের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
তবে শ্রীলঙ্কার দশা যাতে তাঁদের না হয় সেজন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটা মূলত সরকার তথা গোটা দেশের বিভিন্ন খাতে খরচ কমানো। যত্র আয় তত্র ব্যয় মন্ত্র পুরোপুরি কার্যকর করতে সে দেশে সরকারি পর্যায়ে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলির মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল, বিদ্যুতে রেশনিং চালু। অর্থাৎ মেপে খরচের সরকারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বেশ কয়েকঘন্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অবশ্য গ্রাহকদের সুবিধার্থে এজন্য আগেই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, কোথায় কখন বিদ্যুৎ থাকবে না।
দিন কয়েক আগেই সরকার নির্দেশ মতো ঢাকা-সহ বড় শহরগুলিতে রাত আটটার মধ্যে বড় বাজারগুলি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সেটাও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে করা হয়।
শুধু জনগন নয়, সরকারি কাজেও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, সরকারি সব অফিসে বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমাতে হবে। সে জন্য এসি মেশিনের ব্যবহার ৭৫ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে সরকারি অফিসগুলিতে। যে সব সরকারি দফতরে সেন্ট্রালি এসির ব্যবস্থা সেখানে সেই ব্যবস্থা চার ঘণ্টা পর পর এক ঘন্টা করে চালানো যাবে। তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি করা যাবে।
বিদ্যুতের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ঠিক করেছে, দেশে জ্বালানি খাতে খরচ ২০ শতাংশ কমানো হবে। সেজন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে জনসাধারণকে গণ পরিবহণ ব্যবহারে পরামর্শ দিয়েছে সরকার। সরকারি আধিকারিকদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির ব্যবহার কমাতে পুল ব্যবস্থা ফেরানো হয়েছে। এখন একটি গাড়িতে একজনের পরিবর্তে তিনজন আধিকারিক অফিস যাতায়াত করবেন।
পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াতেরও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কীভাবে কমানো যায় তার পথ খুঁজতে বলা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রককে। পেট্রল -ডিজেল -সিএনজির সাশ্রয় করতে সপ্তাহে একদিন পাম্প বন্ধ রাখার ভাবনাচিন্তাও শুরু করেছে সে দেশের সরকার।
বিদ্যুৎ, গাড়ি এবং অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে আধিকারিকদের সরকার বলেছে, অধিকাংশ বৈঠক অনলাইনে সারতে। খুব জরুরি না হলে মন্ত্রী, অফিসারদের বিদেশে যাওয়া বন্ধ রাখতে বলেছে হাসিনা সরকার।
শ্রীলঙ্কার বেহাল আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা চলাকালে বাংলাদেশ সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে সরকারি কোষাগারের হাল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে সে দেশে। বিরোধী দল বিএনপি দাবি করছে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হল বলে।
হাসিনা সরকারের বক্তব্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। করোনার কারণে এখনও চিন সহ অনেক দেশ থেকে আমদানি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে কিছু পণ্যের জোগানে ঘাটতি আছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াতেই ডলার খরচে সরকার বাড়তি সতর্ক।
খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
স্বামী ও দুই পুত্রর অকালমৃত্যু! শোকের পাহাড় পেরিয়ে রাইসিনা হিলস ছুঁয়েছেন দ্রৌপদী