কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও এফআইআর নথিভুক্ত না হলেও, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
.jpeg.webp)
ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 May 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রাকে নিয়ে তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হরিয়ানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তার সঙ্গে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের সংযোগ সামনে এল। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই কলকাতায় এসেছিল জ্যোতি, ঘুরেছে শিয়ালদহ, ব্যারাকপুর, এমনকি গেছিল শিলিগুড়িও। তার ইউটিউব চ্যানেলের নানা ভিডিও ঘেঁটে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন এমন কিছু এলাকায় তার উপস্থিতির প্রমাণ পাচ্ছেন, যেগুলি সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার পক্ষে সংবেদনশীল বলে ধরা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় থাকার সময় জ্যোতি শহরের একাধিক জনবহুল এলাকা এবং দর্শনীয় স্থানের ভিডিও তোলে। এর মধ্যে রয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে চলন্ত ট্রেনের ভিডিও, পাশাপাশি ব্যারাকপুরে একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে তৈরি করা রিলও। অথচ ব্যারাকপুর এলাকাটি রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সেনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই কি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই এলাকায় এসেছিল সে?
আরও জানা যাচ্ছে, হুগলির শেওড়াফুলিতে একটি বিয়েবাড়িতে অংশগ্রহণ করেছিল সে। এখন সেই বাড়ির খোঁজ চলছে। জ্যোতির সঙ্গে সেই বাড়ির লোকজনের কী সম্পর্ক ছিল এবং কেন তাকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।
শুধু কলকাতা বা হুগলি নয়, জ্যোতির ঘোরাফেরার তালিকায় রয়েছে শিলিগুড়িও। জানা গিয়েছে, গত বছরের ২৬ অগস্ট একটি ভিডিও প্রকাশ করে সে জানায়, দিল্লি থেকে বিমান ধরে বাগডোগরা এসেছে ভুটান যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সেই সময় শিলিগুড়ির একটি হোটেলেই ছিল সে। কিন্তু এখানেও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, বিশেষত বাগডোগরা বিমানবন্দর ও তার সংলগ্ন এলাকায়। উঠছে প্রশ্ন।
গোয়েন্দাদের মতে, এটি নিছক ভ্রমণ নাকি পরিকল্পিত নজরদারির অংশ, তা খতিয়ে দেখছে হরিয়ানা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি। জানা গিয়েছে, জ্যোতির সঙ্গে আর এক মহিলা ইউটিউবারকেও নজরে রাখা হয়েছে, যিনি তার সঙ্গে পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং কোনারক মন্দিরে ভিডিও শ্যুট করেছেন। সেই ভিডিওগুলিও এখন তদন্তের আওতায়।
কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও এফআইআর নথিভুক্ত না হলেও, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় অন্যান্য রাজ্যের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাঁরা নিজেরাও তথ্য যাচাই করেন। জ্যোতির কলকাতায় আসার তথ্য তাঁদের কাছেও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গুপ্তচর হিসেবে কাজ করারা অভিযোগে শনিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেও সীমান্তে চোরাচালানের পাশাপাশি গোপন খবর আদানপ্রদানের কাজ করত।