
শেষ আপডেট: 25 June 2019 18:30
তদন্ত যত এগিয়েছে ততই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রতিবেশীরাও দাবি করেছিলেন, গোটা পরিবার মুক্তির খোঁজে অতিপ্রাকৃত চর্চায় জড়িত ছিল। সম্ভবত এর পিছনে ছিলেন কোনও তান্ত্রিক। এমনকি পরিবারের সদস্যেরা মৃত আত্মার সঙ্গেও কথা বলতেন বলে জানা যায়। গুপ্ত সাধনার জন্যই নাকি ওই বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল ১১টি পাইপ। ১১টা রড দিয়ে তৈরি বাড়ির সদর দরজা, জানলাও ১১টি। মোট ১১ জনের মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দীনেশের কথায়, "পরিবারের একমাত্র জীবিত আত্মীয় হিসেবে আমি ওই বাড়ির মালিকানা পাই গত বছর অক্টোবরে। ইদানীং আলি ভাইয়ের নিয়ে এখানে থাকছি আমি। তেমন কিছু চোখে না পড়লেও, শুনেছি এই বাড়িতে আত্মাদের প্রভাব রয়েছে।" বাড়ি বিক্রির জন্য ক্রেতাদের খোঁজ করছেন বলে জানিয়েছেন দীনেশ। একজনের সঙ্গে দেড় কোটি টাকাতে রফাও হয়েছে। কথাবার্তা চলছে আরও কয়েকজনের সঙ্গে।
পাড়াতেই ইস্ত্রির দোকান সন্দীপের। জানিয়েছেন, এলাকার লোকজনের বদ্ধমূল ধারণা এই বাড়িতে ভূতের আনাগোনা আছে। রোজ রাতে কিছু না কিছু ঘটে। সেই কথা ছড়িয়ে পড়তে কেউ বিশেষ এই বাড়ির ধারকাছে আসেন না।
[caption id="attachment_117880" align="aligncenter" width="647"]
নারায়ণী দেবী-সহ বুরারি পরিবারের কয়েকজন[/caption]
তবে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসারদের ধারণা, বুরারির ভাটিয়া পরিবার এক বিরল মানসিক রোগে ভুগছিলেন। যার নাম ‘ফোলি আ দু’ বা ‘শেয়ার্ড সাইকোসিস ডিসঅর্ডার’। কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মানসিক যোগ থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে কারোর মধ্যে। যেখানে অসুস্থ ব্যক্তি মনে করেন, তাঁর সঙ্গে অন্য জন কথা বলছেন। সে ব্যক্তি মৃত হলেও ওই ব্যক্তির মনে এমন অলীক ধারণা হয়। পরিবারের বাকিদের মধ্যেও এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই থেকেই হয়তো গণআত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বুরারির ভাটিয়া পরিবার।