
শেষ আপডেট: 12 July 2022 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝ আকাশে (Mid air) একের পর এক বিপত্তি (Problem)। কখনও কেবিন থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে, তো কখনও বা হঠাৎই চিড় ধরছে উইন্ডশিল্ডে। কখনও আবার ওয়েদার রাডার কাজ না করায় জরুরি অবতরণ করতে হচ্ছে অন্যত্র। সম্প্রতি এ ধরনের প্রায় প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে একটি নাম - স্পাইস জেট (Spice Jet Flight)। গত ১০ মাসে ঘটে যাওয়া ১৩ টি বিপত্তির মধ্যে ৮টিই ঘটেছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং বোয়িং ৭৩৭ বিমানে।
কিন্তু কী কারণে বারবার একই বিমান সংস্থার বিমানে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের গোলযোগ? সেই বিষয়ে খোঁজ খবর করতেই সামনে এসেছে আশ্চর্য তথ্য। দ্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) গত বছর অডিট করেছিল স্পাইস জেটের। সেই সমীক্ষা থেকে জানা যায়, সংস্থাটি আর্থিক ঘাটতিতে ভুগছে। বিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে যারা, তারা নিয়মিত টাকাও পাচ্ছে না। তার জেরে বেশিরভাগ সময়েই বিমানের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কম পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে। এই বিষয়ে স্পাইস জেটকে শো কজ নোটিস পাঠিয়েছে ডিজিসিএ। এখনও পর্যন্ত তার উত্তর দেয়নি স্পাইস জেট।
অসামরিক বিমান বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, স্পাইস জেটের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বাজেট এয়ারলাইন্স কিংবা লো কস্ট এয়ারলাইনসের যুগে উড়ান সংস্থাগুলি বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে। বিশেষ করে করোনা অতিমহামারীর পর থেকে এমন একটা ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।
স্পাইস জেটের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজয় সিং যদিও দাবি করেছেন, সম্প্রতি যে ঘটনাগুলি তাদের উড়ানে ঘটেছে সেক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের ঘাটতির মতো কিছু ছিল না। উড়ানের আগে বিমানগুলিকে খুঁটিয়ে দেখা হয়। তবে এখন থেকে আরও ভালভাবে চেক করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে উপর্যুপরি এ ধরনের ঘটনার জন্য ডিজিসিএ'র উদাসীনতাকেও কাঠগড়ায় তুলছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, রেগুলেটরি সমিতিতে লোক কম। অল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ করার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিমানের নিরাপত্তায়।
স্পাইস জেটের বিমান বিপত্তির যে সব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ৮টিই হয়েছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং বোয়িং ৭৩৭ প্লেনে। বিশ্বজুড়ে লো কস্ট ক্যারিয়ার (Low Cost Carrier) এবং ফুল সার্ভিস ক্যারিয়ার (Full Service Carrier) হিসাবে ব্যবহার করা হয় বোয়িং বিমানগুলিকে। তবে কি সমস্যা সেখানেই? সেই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন সেন্টার ফর এভিয়েশনের টিম লিড লেনিশ প্যাটেল। তাঁর দাবি, আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশনা এবং ডিজিসিএ'র তরফে একাধিক চেক এবং অডিটের পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সকে।
এর আগে ইথিওপিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান এয়ারলাইনসের দুটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল, যার জেরে মারা যান সাড়ে তিনশোরও বেশি যাত্রী। এরপরেই এভিয়েশন রেগুলেটরের পক্ষ থেকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানগুলির উড়ানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু ২০২১ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিমানগুলিকে আবার ওড়ার অনুমতি দেয় ডিজিসিএ। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে চিনের এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং বিমানে দুর্ঘটনার ফলে প্রাণ হারান ১৩২ জন যাত্রী। এরপর থেকেই সমস্ত বোয়িং বিমানকে বর্ধিত নজরদারির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে বলে জানায় ডিজিসিএ।
প্যাটেলের আরও দাবি, এই ধরনের ঘটনা আদৌ উদ্বেগজনক নয়। এখন বেশি সংখ্যক মানুষ বিমানে উঠছেন, যার ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে সাধারণ সচেতনতা। সেই কারণেই সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতিও তাঁরা ধরতে পারছেন। এই জাতীয় ঘটনায় ভয় পাওয়া আযৌক্তিক বলে তাঁর দাবি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই রায়পুর-ইন্দোর ইন্ডিগোর বিমানের কেবিনে ধোঁয়া দেখা যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। একই দিনে ল্যান্ড করার পরেই একটি ব্যাঙ্কক-দিল্লি ভিস্তারা বিমানের ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যায়। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু ঘটনা অন্য সংস্থাগুলির উড়ানেও ঘটছে।
ব্যক্তিগত আয়কর জমা দেওয়ার শেষ দিন এগিয়ে এল, না দিলে বাড়বে হয়রানি