
কাজল শেখ ও অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 26 September 2024 23:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'অনেক ঘাটের জল খেয়েছি। পাঙ্গা নিতে এসো না, চুড়ি পরে বসে নেই!' বক্তার নাম কাজল শেখ। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাপতি।
বুধবার বোলপুরে দলীয় পার্টি অফিসে নিজের অনুগামীদের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল যখন বৈঠক করেছেন ঠিক তখনই নানুরের একটি দলীয় সভা থেকে এই হুঙ্কার দিয়েছেন কাজল। কাজল সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে অনুব্রত মঙ্গলবার তিহাড় জেল থেকে ঘরে ফেরার পর কাজলের এহেন হুঁশিয়ারি ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে দলের অভ্য়ন্তরেও।
২৫ মাস জেল খেটে মঙ্গলবারই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিহাড় থেকে জেলায় ফিরেছেন তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। সেদিন কেষ্ট মণ্ডলের সঙ্গে অনেকে দেখা করতে এলেও দেখা মেলেনি বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের। এমনকী বুধবার বোলপুর পার্টি অফিসে অনুব্রতর ডাকা বৈঠকেও দেখা যায়নি তাঁকে। তারপরই কাজলের এমন মন্তব্য ঘিরে অনেকেই বিষয়টিকে দুয়ে দুয়ে চার করে দেখার চেষ্টা করছেন।
ঠিক কী বলেছেন কাজল শেখ? ইতিমধ্যে সোশ্যাল মাধ্যমে ঘুরছে একটি ভিডিও। ভিডিওর সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। বক্তৃতার শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডলকেও নিজের 'অভিভাবক' হিসেবে সম্বোধন করে কাজলকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "কেউ গ্রুপবাজি করতে এসো না। ফল ভাল হবে না। দাবা থেকে হাডুডু, সব খেলা খেলতে জানি।"
এও বলেছেন,"আমি পঞ্চায়েত থেকে পার্সেন্টেজ নিতে আসিনি, নদীর বালি থেকেও পয়সা নিতে আসিনি। পাঙ্গা নিতে এস না, চুড়ি পরে বসে নেই। যেদিন গোটাব সেদিন গুটিয়ে দেব।"
গরু পাচারের অভিযোগে ২০২২ সালের ১১ অগস্ট অনুব্রতকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে বালি, কয়লা চুরির অভিযোগও এনেছে বিরোধীরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘুরিয়ে অনুব্রতকেই নিশানা করেছেন কাজল।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে কটাক্ষ উড়ে এসেছে পদ্মশিবির থেকে। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, "অনুব্রত খেলা হবে বলেছিলেন। ওদের দলেই খেলা শুরু হয়ে গেছে। আমরা দেখছি, জনগণকেও বলব, খেলা দেখুন এবং উপভোগ করুন।"