
শেষ আপডেট: 11 May 2023 06:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) জল্পনা চলছে (Speculation) অনেক দিন ধরেই। একমাস আগে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবির একেবারে মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিয়ে রেখেছে একনাথ শিন্ডে-বিজেপি জোট সরকারের। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর জল্পনা তার মূলে আছে সুপ্রিম কোর্টের রায়। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের (DY Chandrachud) বেঞ্চ।
গত বছর জুনে শিবসেনার ৩৯ জন বিধায়ক শিবির বদল করে যোগ দিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডের সঙ্গে। তাঁদের ১৬ জনকে দলত্যাগ বিরোধী আইন সদস্যপদ খারিজ করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার। সেই ১৬ জন বিধায়কের দলত্যাগ বৈধ ছিল কিনা বলবে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত। সদস্যপদ খারিজ হলে পতন হবে শিন্ডে সরকারের।
শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের শীর্ষ নেতা সঞ্জয় রাউত সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, পনেরো দিনের মাথায় পতন হবে শিন্ডে-বিজেপি সরকারের। তাঁর দাবি, বিজেপি একনাথ শিন্ডেকে বলে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলো ছেড়ে দিয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাখতে।
সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন রায়ে শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর ১৬ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে ধরে নিয়ে সরকার পতনের জল্পনা শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই। প্রশ্ন হল, শিন্ডের মুখ্যমন্ত্রিত্ব যদি হাতছাড়া হয় তাহলে মহারাষ্ট্রের কুর্সি যাবে কোন দল এবং কোন নেতার দখলে।
আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী গদিতে বসার দৌড়ে সামনের সারিতে আছে তিনটি নাম—বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ, এনসিপির অজিত পাওয়ার এবং শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে। শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিতের এনসিপির জনা চল্লিশ বিধায়ককে ভাঙিয়ে এনে বিজেপি বিকল্প সরকার গড়বে, এমন চর্চা এখন তুঙ্গে। দলের সঙ্গেই আছি বলে অজিতের ঘোষণা সত্ত্বেও এই ব্যাপারে ওই নেতাকে কেউই বিশ্বাস করছেন না। এনসিপির বিক্ষুব্ধ শিবিরের বক্তব্য, বিজেপির সমর্থনে নয়া সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন অজিত।
অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন দলের শীর্ষ নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ। বর্তমানে উপমুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবিশ মহারাষ্ট্রে দু’বার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। গেরুয়া শিবিবের লক্ষ্য ২০২৪-এর এপ্রিল-মে’তে লোকসভা ভোটের সঙ্গেই বিধানসভার নির্বাচন করিয়ে নেওয়া। ততদিন এনসিপির অজিত গোষ্ঠীর সমর্থনে সরকার চালাবেন ফড়ণবিশ। এছাড়া শিন্ডের বিধায়কদেরও মন্ত্রিত্ব দিয়ে সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা সেরে রেখেছে পদ্ম শিবির।
প্রশ্ন হল, মুখ্যমন্ত্রী করা না হলে অজিত পাওয়ার কি বিজেপির সঙ্গী হবেন? মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের খবর, পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়েছে তাতে শরদ পাওয়ারের ভাইপোর পিছু হঠার সুযোগ কম। এনসিপির বেশিরভাগ বিধায়কই সুগার বেল্ট অর্থাৎ আখ চাষ এবং চিনি কারখানা বহুল এলাকার। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই, আয়করের তদন্ত চলছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা বিজেপির হাত ধরতে মরিয়া। দিন কয়েক আগে মহাজোটের শরিক নেতাদের কাছে এই কথা বলেছিলেন স্বয়ং শরদ পাওয়ারও। তারপর অবশ্য জল অনেক গড়িয়েছে। পাওয়ার আচমকা দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে বাকিদের চমকে দেন। বিদ্রোহী ভাইপো অজিতকে চাপে ফেলে দেয় শরদের সিদ্ধান্ত। শেষে নেতা, সমর্থকদের আহ্বানে পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিয়ে নিজের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন প্রবীণ এই নেতা তথা মহারাষ্ট্র রাজনীতির চাণক্য।
উদ্ধব ঠাকরে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীর গদি ফিরে পেতে পারেন? সেটা নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের উপর। শিন্ডের সঙ্গে শিবসেনার ৪৪জন বিধায়ক শিবির বদল করলেও মন্ত্রিসভায় স্থান হয়েছে মাত্র দশ জনের। বাকিদের সঙ্গে উদ্ধব শিবিরের ভালোই যোগাযোগ আছে। শিন্ডে সরকারের পতন হলে বাকিরা উদ্ধবের সঙ্গে চলে আসবেন, আশাবাদী তাঁর শিবির। কিন্তু অজিত পাওয়ার এনসিপি ভাঙিয়ে বিজেপিতে গেলে উদ্ধবের স্বপ্ন সফল হওয়া কঠিন। তা না হলে ক্ষমতায় ফিরতে পারে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের জোট মহা বিকাশ আগাড়ি।
মোদীকে সরকারি মঞ্চে মুখের উপর জবাব রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর, স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল