দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ৭১ বছরের পি. রাজাগোপালের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হল বুধবার। কে এই রাজাগোপাল? বিজ়নেসম্যান থেকে খুনী হয়ে ওঠা এক দক্ষিণভারতীয় নাগরিক। ‘ধোসা কিং’ তাঁর আরও একটা পরিচয়।
খুব সহজ করে বললে, সারা ভারত জুড়ে এবং ভারতের বাইরেও দক্ষিণের ধোসা, বড়া, ইডলিকে জনপ্রিয় করিয়ে তোলার মানুষটার নাম রাজাগোপাল। তামিলনাড়ুর দক্ষিণের একটি গ্রামে ‘নাদাল’ সম্প্রদায়ের এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর ছেলে রাজাগোপাল তাঁর বুদ্ধির জোরে জনপ্রিয় হয়েছিলেন সারা বিশ্ব জুড়ে। তিনিই প্রথম কম পয়সায় ধোসা, ইডলির দোকান খোলেন এ দেশে। তাঁর ভাবনা ছিল, কম রোজগেরে পরিবারগুলো বেড়াতে বেরিয়ে কিছু খেতে চাইলে, তাঁদের মুখে এমন খাবার তুলে দিতে পারলে, তাঁরা এই খাবারই সব জায়গায় খুঁজবেন। আর তাতেই ব্যবসা বাড়বে। সেই ভাবনা থেকেই রেঁস্তোরা নিয়ে মানুষের বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না যে সময়ে, তখন তিনিই প্রথম নিরামিষ খাবারের দোকান খোলেন তৎকালীন মাদ্রাজ, বর্তমানের চেন্নাইতে।
এখন ভারতের মোট ৩৩ টি জায়গায়, যার মধ্যে ২০ টি চেন্নাইতে, ভারতের বাইরে ৪৭ টা জায়গায়, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজ়িল্যাণ্ড, মিডল-ইস্ট, আফ্রিকা, ইউরোপ, নর্থ আমেরিকায় রয়েছে এই ফুড চেন। যার নাম ‘সারাভানা ভবন’। ১৯৬৮ তে একটি মুদির দোকান খোলেন রাজাগোপাল। ১৯৮১ তে তৎকালীন চেন্নাইতে প্রথম খোলা হয় সারাভানা ভবন। ১৯৯২ তে তিনি সিঙ্গাপুরে ঘুরতে গিয়ে ম্যাকডোনাল্ডের মতো ফুড চেন দেখে এই খাবারের দোকান সব দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। ২০০০ সালে প্রথম ভারতের বাইরে খোলা হয় সারাভানা ভবন।

এই অবধি সব ঠিক থাকলেও রাজাগোপালের আরও একটা দিক ছিল। সাদা পোশাকে, চন্দনের তিলকে সেজে থাকা রাজাগোপাল মহিলাদের প্রতি সবসময়েই দুর্বল ছিলেন। তাঁর দোকানে এখনও বিভিন্ন ভারতীয় দেব-দেবীর ছবির সাথে ঝোলানো আছে দুটো ছবি। একটা তাঁর ছেলের সাথে, আরেকটায় তাঁর ধর্মীয় গুরুর সাথে। এই গুরুই তাঁকে তৃতীয় বিয়ের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শেই তাঁর কর্মচারী প্রিন্স সনৎকুমারকে খুন করিয়ে দেন রাজাগোপাল। কারন তাঁর নজর ছিল সনতের স্ত্রী জীবজ্যোতির উপর। জীবজ্যোতিকে বারবার প্রস্তাব দিলেও তিনি উত্তরে ‘না’ শুনতেন। আর রাজাগোপাল কোনওদিনই ‘না’ শুনতে অভ্যস্ত ছিলেন না। সে কারণেই খুন করিয়ে দেন সনৎকুমারকে। সনৎকুমারের দেহ পাওয়া যায় কোডাইকানাল জঙ্গলের কাছে পেরুমালমালাইতে। ২০০১ সালে ঘটে এই ঘটনা। ২০০৪ সালে তাঁর ১০ বছরের জেল হয়। এরপর তিনি জামিনে মুক্ত হন ২০০৯ সালে। এবার ২৯শে মার্চ, ২০১৯ এ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পি রাজগোপালকে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজাগোপালকে আগামী ৭ ই জুলাইয়ের মধ্যে হাজিরা দিয়ে বাকি দিনগুলো সংশোধনাগারেই কাটাতে হবে।