
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 12 December 2024 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙনের সবথেকে খারাপ প্রভাব পড়ে শিশুদের উপর। সে কারণেই সন্তানদের বিষয়ে গাইডলাইন তৈরির জন্য জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবারই আশি পাতার রিপোর্ট জমা পড়ল আদালতে। সেই রিপোর্টে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সন্তানকে যৌথ হেফাজতে রাখার পাশাপাশি সামাজিক চাহিদা পূরণ-সহ একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানদের হেফাজত নিয়ে চাইল্ড রাইট ফাউন্ডেশন একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করে ৭ টি চ্যাপ্টারে।
সেখানেই একাধিক নির্দেশের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে-
মামলা চলাকালীন সন্তানের পর্যবেক্ষণ।
বিচ্ছেদের মামলার নিষ্পত্তির পর সন্তানের পর্যবেক্ষণ।
বাবা ও মায়ের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ।
২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে বাবা ও মায়ের থাকা চলবে না।
সন্তানকে যৌথ হেফাজতের রাখার নির্দেশ।
মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসককে দিয়ে বাবা, মা, ও সন্তানের মানসিক অবস্থা পরীক্ষা।
আদালত নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের ভূমিকা।
জানা গেছে, মুম্বাই হাইকোর্টে গাইড লাইনকে মান্যতা দেওয়া নিয়ে আগেই দায়ের হয় মামলা। হাইকোর্টের মান্যতার পর মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতগুলি গাইডলাইনস মেনে বিচার শুরু করে। পরবর্তীতে হিমাচল, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং কর্ণাটক হাইকোর্টেও চাইল্ড রাইট ফাউন্ডেশনের গাইডলাইন মান্যতা পায়। এরপরই একই দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন চিকিৎসক রাতুল রায়।
২০২২ সালে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন রুল কমিটিকে। বৃহস্পতিবার সেই মতো জমা পড়ল বিস্তারিত রিপোর্ট। এদিনের রিপোর্ট দেখে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেন এই বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।