
শেষ আপডেট: 1 June 2022 10:51
বুধবার, ২৭ মে রাত সাড়ে ৯টা (ব্রিটেনের সময়) নাগাদ ফ্যালকন রকেটের উৎক্ষেপণ থমকে যায়। স্পেস এক্স বিবৃতি দিয়ে জানায়, ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির জন্য রকেটের উৎক্ষেপণ থামিয়ে দিতে হয়েছে। তার আগে ঘণ্টা দুয়েক নিজেদের বিশেষ স্পেস স্যুটে ড্রাগন ক্যাপসুলের ভেতরে মহাকাশ যাত্রার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বেনকেন ও হার্লে। মিশন থমকে গেলেও হাল ছাড়েননি দুই নভশ্চর। বরং হাসতে হাসতেই তাঁদের রকেট থেকে নেমে আসতে দেখা যায়। দু’জনেই জানান, কাউন্টডাউনের সময়টা বাড়ল ঠিকই, তবে উৎসাহ বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং নতুন উদ্যোমে আরও একটা নতুন দিনের অপেক্ষা করছেন তাঁরা। ইস্টার্ন টাইম বিকেল ৩ টে ২২ মিনিটে, ভারতীয় সময় রাত ২টো ৩ মিনিট নাগাদ রকেট উৎক্ষেপণের সময় ঠিক হয়েছে। স্পেস এক্স জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই সময়েই মহাকাশ অভিযানে বেরিয়ে পড়বে ফ্যালকন ৯ রকেট।
স্পেস এক্সের এই মহাকাশ যাত্রাকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ ২০১১ সালের পরে মহাকাশে ফের মানুষ নিয়ে যাওয়ার বড়সড় কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এবার আর অন্য দেশের সাহায্য নয়, মার্কিন বেসরকারি গবেষণা সংস্থাই গোটা মিশনের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এই উদ্যোগে স্পেস এক্সের হাত ধরেছে নাসাও।
নাসা প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন জানিয়েছে, প্রথমবার কোনও বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মহাকাশ মিশনের এত বড় উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত। ঠিক সময় স্পেসক্রাফ্ট যাত্রা শুরু করলে বেনকেন ও হার্লের আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছতে সময় লাগবে ১৯ ঘণ্টার মতো। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে ২১০ দিন তাঁরা কাটাতে পারবেন স্পেস স্টেশনে। তবে এখনই এই সময়টা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নভশ্চররা স্পেস স্টেশনে পা রাখার পরেই পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক হবে।
স্পেস এক্স প্রধান ইলন মাস্ক বলেছেন, এই ঐতিহাসিক মহাকাশ যাত্রা নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমো ২’। এটা ডেমোনস্ট্রেশন মিশন যা প্রমাণ করবে স্পেস এক্স শুধু স্পেসক্রাফ্ট বানাতেই দক্ষ নয়, নিরাপদে মহাকাশে মানুষও নিয়ে যেতে পারে। এই ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল যার মধ্যে দুই নভশ্চর থাকবেন, এর নকশাও বিশেষ ভাবে বানানো। দীর্ঘ সময় মহাকাশযাত্রার জন্য নাসার উদ্যোগে এমন স্পেস-ক্যারিয়ার বানানো হয়েছে।
https://twitter.com/Commercial_Crew/status/1266524295133646856
প্রথমবার ২০০৮ সালে পৃথিবীর কক্ষে ফ্যালকন ১ রকেট পাঠিয়েছিল স্পেস এক্স। সেটাই ছিল প্রথম মহাকাশ মিশন। ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট মহাকাশে পাঠিয়েছিল তারা। এরপরে ২০১৫,২০১৭ সালে ফ্যালকন ৯ রকেট পাক খেয়েছে পৃথিবীর কক্ষে। ২০১১ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নামে স্পেস এক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট। তারপর থেকে দীর্ঘ সময়ের বিরতি। ৯ বছর পরে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের আইএসএস-এ নভশ্চর পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে স্পেস এক্স।
৪৮ বছরের অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও ৫৩ বছরের অ্যাস্ট্রো-হার্লে দু’জনেই দক্ষ মার্কিন নভশ্চর। হার্লে মার্কিন নৌসেনার ফাইটার জেটের পাইলট। বেনকেন ফ্লাইট টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার। আগে মার্কিন বায়ুসেনায় ছিলেন। পরে নাসায় যোগ দেন। এর আগেও ২৯ দিন মহাশূন্যে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বেনকেনের।
[caption id="attachment_225339" align="alignnone" width="643"]
সূত্র: স্পেস এক্স[/caption]
কীভাবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছবে স্পেস এক্সের রকেট?
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা করার পরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের রকেট থেকে ক্যাপসুল আলাদা হবে। ৩৯ এ লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণের পরে প্রথম বিচ্ছেদ হবে। প্রথম ক্যারিয়ার ফিরে আসবে ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে। যেটা রাখা থাকবে আটলান্টিক মহাসাগরের উকূলে। ক্রু ক্যাপসুল এরপর দুই নভশ্চরকে নিয়ে পৃথিবীর কক্ষে প্রবেশ করবে। গতিবেগ হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৭ হাজার মাইল। কক্ষে ঢোকার ২৪ ঘণ্টা পরে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছবে ড্রাগন ক্যাপসুল।