Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ধাতুময় চাঁদ! তার কোটরে লোহার ছড়াছড়ি, ঘন হয়ে জমে আছে ধাতু, খোঁজ দিল নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের গর্তে কী আছে? গর্ত মানে চাঁদের গহ্বর বা ক্রেটার। চাঁদের বাড়ির রহস্য জানতে বিজ্ঞানীদের কৌতুহলের শেষ নেই। চাঁদের উত্তরে কী আছে, দক্ষিণের গহীন অন্ধকারেই বা কী রহস্য লুকিয়ে তা জানতে কখনও মহাকাশযানে চাপিয়ে মানুষ পাঠানো হ

ধাতুময় চাঁদ! তার কোটরে লোহার ছড়াছড়ি, ঘন হয়ে জমে আছে ধাতু, খোঁজ দিল নাসা

শেষ আপডেট: 6 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের গর্তে কী আছে? গর্ত মানে চাঁদের গহ্বর বা ক্রেটার। চাঁদের বাড়ির রহস্য জানতে বিজ্ঞানীদের কৌতুহলের শেষ নেই। চাঁদের উত্তরে কী আছে, দক্ষিণের গহীন অন্ধকারেই বা কী রহস্য লুকিয়ে তা জানতে কখনও মহাকাশযানে চাপিয়ে মানুষ পাঠানো হয়েছে, আবার কখনও লুনার স্পেসক্রাফ্ট চাঁদের পাড়ায় পাঠিয়ে উঁকিঝুঁকি দিয়েছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। নাসার নতুন চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস’ ঘিরে উত্তেজনার শেষ নেই। চন্দ্রযাত্রার প্রস্তুতির মাঝেই নাসার অরবিটার খবর এনেছে চাঁদের কোটরে নাকি জমে আছে লোহা। ধাতু ছড়িয়ে রয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠের গভীরে। চাঁদের পাড়ার এই নতুন খবর এনেছে নাসার লুনার রেকনাইস্যান্স অরবিটার (LRO) স্পেসক্রাফ্ট। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এই রোবোটিক স্পেসক্রাফ্ট চাঁদের দিকে সতর্ক নজর রেখে বসে আছে। সেই ২০০৯ সাল থেকেই নাসার ‘লুনার ক্রেটার অবজারভেশন অ্যান্ড সেন্সিং স্যাটেলাইটের’ (LCROSS) সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল এলআরওকে। ১০০ মিটার রেজোলিউশনে চাঁদের পিঠের ঠিকুজিকুষ্ঠীর ৩-ডি ম্যাপিং করেছে এলআরও। সেখানেই ধরা পড়েছে, চাঁদের মাটির ০.৫ মিটার থেকে ২ মিটার গভীরে জমে আছে লোহা, টাইটেনিয়াম অক্সাইড। চাঁদের গহ্বরগুলিতেও ধাতুর খোঁজ মিলেছে। ধাতুময় চন্দ্রপৃষ্ঠের হদিশ দিয়েছে এলআরও-র মিনি রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি (Mini-RF) যন্ত্র। চাঁদের মাটিতে কী কী খনিজ রয়েছে চার সন্ধান করার জন্যই চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার বিক্রমকে ও রোভারকে পাঠিয়েছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চন্দ্রযানের রোভারের কাজই হত চাঁদের রুক্ষ, পাথুরে মাটিতে ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে কিনা তার খোঁজ করা। তবে সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। চাঁদের মাটিতে ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ করার কারণে বিক্রম দক্ষিণ মেরুরই কোথাও মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। সেই খোঁজ এখনও মেলেনি। চাঁদের মাটিতে লোহা ও টাইটেনিয়াম অক্সাইডের খোঁজের খবর বেরিয়েছে ‘আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স লেটারস’-এ। এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানী এসাম হেগি বলেছেন, উত্তর মেরুতে অর্থাৎ নর্দার্ন হেমিস্ফিয়ারের কাছে চাঁদের গহ্বরে খনিজের খোঁজ মিলেছে। সেখানে চাঁদের গর্তে, ধুলোতে তড়িদাহত কণার ছটফটানিও লক্ষ্য করা গেছে।  মিনি-আরএফ দেখিয়েছে চাঁদের পিঠে এক একটি বড় গহ্বরে যার পরিধি প্রায় ৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি, সেখানেই জমে আছে লোহা, টাইটেনিয়াম অক্সাইডের মতো ধাতু। চাঁদের মাটিতে এই ধাতু এল কীভাবে সে নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেকে চাঁদের জন্মরহস্যের থিওরি টেনে এনে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। উঠে এসেছে নানা তথ্য। চাঁদের জন্ম কীভাবে হল সেই নিয়ে অনেক থিওরি রয়েছে— ফিশন থিওরিতে বিজ্ঞানীরা বলেন পৃথিবী জন্মেরপরে দুরন্ত গতিতে নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরছিল। এই বেগ এতটাই বেশি ছিল যে তার থেকে একটা অংশ ছিটকে বেরিয়ে চাঁদের জন্ম হয়। তাই চাঁদকে অনেকে পৃথিবীর আত্মজা বলেন। পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষজ বলের টানে চাঁদ আর মহাশূন্যে ছিটকে যেতে পারেনি, পৃথিবীর চারপাশে তার উপগ্রহ হিসেবে থেকে গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন চাঁদের এইসব ধাতুর উৎস আসলে পৃথিবী। আবার অন্য মতও রয়েছে। দাবি, পৃথিবীর মাটিতে আয়রন অক্সাইডের পরিমাণ কম। তাহলে চাঁদের গহ্বরে এত টাইটেনিয়াম এল কীভাবে! ক্যাপচার থিওরিতে বিজ্ঞানীরা মনে করেন মহাকাশে বিচ্ছিন্ন গ্রহাণুর মতোই ঘুরছিল চাঁদ। পৃথিবীর কাছাকাছি এসে তার অভিকর্ষজ বলের মায়ায় আটকে পড়েছে। আবার জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট হাইপোথেসিসে মহাকাশবিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবীর মাটিতে কোনও গ্রহাণু বা মহাজাগতিক বস্তু এসে সজোরে আছড়ে পড়ে। সেই প্রচণ্ড অভিঘাতে পৃথিবীর একটা অংশ ছিটকে বেরিয়ে চাঁদের জন্ম হয়। সেই জন্যই পৃথিবীর মতো চন্দ্রপৃষ্ঠেও ধাতুর খোঁজ মিলেছে। চাঁদের পিঠে ধাতুর খোঁজের সঙ্গেই তড়িদাহত কণাদের লাফালাফিও দেখেছে এলআরও। চাঁদের ক্রেটার বা গহ্বর জুড়ে থাকে ধুলো বা রেগোলিথ (Regolith)। এই ধুলোতেই মিশে থাকে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন, টাইটেনিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ। এদের অণু-পরমাণুর মধ্যে নিরন্তর ধাক্কাধাক্কি, মারামারি চলে। উত্তেজিত হয়ে ওঠে ইলেকট্রনেরা।  পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র যেমন সূর্যের অতিবেগুণী রশ্মিকে সরাসরি পৃথিবীর মাটিতে আছড়ে পড়তে বাধা দেয়, চাঁদে তেমন কোনও চৌম্বকক্ষেত্র নেই। কারণ পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল নেই চাঁদে। সৌরঝড় বা সূর্য থেকে নির্গত তড়িদাহত কণার স্রোত বা কোনও মহাজাগতিক রশ্মি সরাসরি চাঁদে আছড়ে পড়তে পারে। এই রশ্মির সঙ্গে সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণাগুলির ঘাত-প্রতিঘাতে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি হয়। গরম হলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য ধূলিকণাগুলো তড়িৎ ঋণাত্মক কণা বা ইলেকট্রন ছাড়তে থাকে। তাপমাত্রার ফারাক এবং মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে বিরাট এলাকা জুড়ে ধুলোর ঝড়ও শুরু হয়।  নাসা জানিয়েছে এলআরও  চাঁদের ধুলো ও তার খনিজের অনেক গোপন খবর জোগাড় করে আনছে। চাঁদের জন্ম রহস্য জানতে এই তথ্য কাজে লাগবে।

```