
শেষ আপডেট: 2 January 2024 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: তৃণমূলে নবীন বনাম প্রবীণ সংঘাতের স্রোত সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলের এই প্রবীণ বিধায়ক মঙ্গলবার বললেন, “দ্বন্দ্ব ছিল আছে থাকবে। পৃথিবীর সব দলে দ্বন্দ্ব আছে। দ্বন্দ্ব নিয়েই মমতা তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গের বুকে বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনা।”
বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে পাকিয়ে উঠেছে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব। সোমবার দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন যেন আগল ভাঙে। তৃণমূলের এক শ্রেণির প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী রোজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুৎসা করছেন। কিন্তু দলের এক শ্রেণির সিনিয়র নেতা পাল্টা শুভেন্দুকে চোর বলছেন না। হয় চুপ করে গা বাঁচিয়ে চলছেন, না হয় গোল গোল কথা বলছেন। দিনের পর দিন পদ আঁকড়ে থাকব, সব রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করব আর দলের কঠিন সময়ে গা বাঁচিয়ে চলব, আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ আক্রমণ করলে তা বসে বসে দেখব, শুধু ন্যাকা ন্যাকা কথা বলব কিংবা আঙুল চুষব এটা কেমন ধারা!”
কুণালের এই মন্তব্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে শাসকদলের অন্দরে। কুণাল কারও নাম না করলেও, কার কার বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ তা চাপা থাকেনি। কুণালের এই বক্তব্যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয় রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন দলের অনেকেই। এই নিয়ে চলা চাপানউতোরেই এদিন জল ঢালতে চাইলেন শোভনদেব। বললেন, “মমতা অভিষেক কোনও দ্বন্দ্ব নেই। লড়াই বলে যেভাবে প্রচার হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। নেত্রী হিসেবে মমতাকে যেমন আমাদের চাই, তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমাদের চাই। কর্মীদের বলব রাস্তায় নেমে মানুষকে বলুন এই স্বৈরাচারী সরকার যদি থাকে তাহলে আমাদের বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে হবে।”