
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 February 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্ত্রী থাকাকালীন কেউ শ্রমিক সংগঠনের পদে থাকতে পারেন কি? তৃণমূলের অন্দরেই সম্প্রতি এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সৌজন্যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান এই নেতা রাজ্যের কৃষি ও পরিষদীয় মন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেডে (সিইএসসি) তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, কলকাতা কর্পোরেশন-সহ এরকম আরও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানেও শোভনদেব শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির পদ এখনও ছাড়েননি। যা নিয়ে দলের মধ্যেই নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ট্রেড ইউনিয়ন আইনের ২২ নম্বর ধারাতেই স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন্দ্রে বা রাজ্যের মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি পদে বসতে পারেন না। ওই ধারায় বলা হয়েছে, “মন্ত্রিসভার সদস্য বা লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি (যদি না তিনি সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের কোনও প্রতিষ্ঠান বা শিল্পসংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকেন নিযুক্ত বা কর্মরত থাকেন) কেন্দ্র বা রাজ্যের ক্ষেত্রে কোনও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বা অন্য কোনও পদাধিকারী হতে পারবেন না”। [No member of the Council of Ministers or a person holding an office of profit (not being an engagement or employment in an establishment or industry with which the Trade Union is connected), in the Union or a State, shall be a member of the executive or other office-bearer of a registered Trade Union.]
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করে নেন যে তিনি এখন ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি পদে রয়েছেন। তবে শোভনদেবের দাবি,“মন্ত্রী থাকাকালীন ট্রেড ইউনিয়নের পদে থাকা নিয়ে কোনও আইনি জটিলতা নেই। যদি জটিলতা থাকতো, তাহলে এতদিন আমি এই পদে রয়েছি কী করে?” তাঁকে ট্রে়ড ইউনিয়ন আইনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে, শোভনদেব আবার এর দায় আইনমন্ত্রীর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ট্রেড ইউনিয়নের পদে থাকতে না পারার ব্যাপারে যদি কোনও আইন থাকত, তাহলে আইনমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমাকে জানাতেন।"
মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ায় শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নিজে থেকেই ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ তৃণমূলে অবশ্য রয়েছে। অতীতে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন পূর্ণেন্দু বসু। ২০০৯ থেকে ২০১১ তিনি আইএনটিটিইউসির সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের মে মাসে রাজ্যে পালা বদল ঘটে। শ্রমমন্ত্রী করা হয় পূর্ণেন্দুবাবুকে। ২১ মে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেন পূর্ণেন্দুবাবু জানিয়ে দেন, তিনি আর ট্রেড ইউনিয়নরে পদে থাকতে পারবেন না। কারণ, আইন অনুযায়ী মন্ত্রী থাকাকালীন এভাবে কোনও শ্রমিক সংগঠনের কোনও পদে থাকা যায় না। পূর্ণেন্দুবাবুর পর দোলা সেনকে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী।
পূর্ণেন্দুবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি দ্য ওয়ালকে বলেন, “একদিকে মন্ত্রীও থাকব, আবার ট্রেড ইউনিয়নের পদেও থাকব, আমার মনে হয়েছিল, দুটো দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট তথা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। সেকারণেই আমি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম”।
২০২১ সালের পর তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি করা হয় সিপিএম থেকে আসা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দোলা সেন এখন শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী। প্রশ্ন হল, পূর্ণেন্দু বসুর উদাহরণ যখন সামনে রয়েছে, তখন শোভনদেবের ব্যাপারে কেন প্রশ্ন তুলছেন না দোলা সেন? এ বিষয়ে তিনি অবশ্য কিছু বলতে চাননি।