দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আদালত। সেটা শোনার পরেও নির্বিকারই রইলেন দক্ষিণ কোরিয়ার মনমিন সেন্ট্রাল চার্চের যাজক লি জেরক। বললেন, "আমি নির্দোষ। যা কিছু করেছি ঈশ্বরের নির্দেশেই করেছি।"
জেরকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই মনমিন চার্চের ১৮ জন মহিলা ভক্তকে ধর্ষণ করেছিলেন তিনি। আদালতে অবশ্য অত্যন্ত নির্বিকার ভাবেই বিচারপতিকে তিনি বলেন, কোনও অপরাধ তিনি করেননি। ঈশ্বরের নির্দেশেই ধর্ষণ করেছেন।
যে চার্চের যাজক ছিলেন জেরক, দক্ষিণ কোরিয়ায় কমপক্ষে ১০ হাজার শাখা রয়েছে মনমিন চার্চের। এবং সেই চার্চের অনুগামী সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ চার্চের যাজক ছিলেন জেরক। তবে এই ঘটনায় কেবল নয়, এর আগেও বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছেন লি। নিজেকে অমর এবং পাপহীন বলে দাবি করে গিয়েছেন বরাবর।
শুধু তা-ই নয়। তিনি দাবি করতেন, তাঁর অনুগামী হলে সোজা স্বর্গে ঠাঁই হবে। এবং চরম ঘৃণ্য ভাবে, ধর্ষণকে তিনি পাপমুক্তির উপায় বলে মনে করতেন! ভক্তদেরও এই ধরনের কথা বলে প্রভাবিত করতেন। ভক্তদের মানসিক দুর্বলতা ও ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ করতেন তিনি। ৭৫ বছর বয়সি এই যাজক বাদ দিতেন না কোনও বয়সের মহিলাকেই।
এই ধর্ষণ মামলায় আদালতে এক নির্যাতিতা জানিয়েছেন, জেরক তাঁকে নানা পাপের কথা বলে মানসিক ভাবে ভেঙে দিয়েছিলেন। সেই পাপ তাঁকে গ্রাস করছে বলে একাধিক ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল জেরক। তাঁর কথায় প্রভাবিত হয়ে পড়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই মহিলা। তার পরেই জেরক তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
জেরক নিজেই অবশ্য বিচার চলাকালীন বারবার বলেছে, ইশ্বরের নির্দেশেই তিনি ধর্ষণ করেছেন।