দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, যাঁর নামটুকুই এখনও যথেষ্ট বাংলা সংস্কৃতির প্রাঙ্গণে। বাঙালির শিল্পচর্চার এক আয়কনিক অবয়ব যেন তিনি। শনিবার দ্য ওয়াল নিউজ় পোর্টালের তরফে বাংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য ম্যাগাজিন 'সুখপাঠ' আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ভাগ করে নেন তাঁর শুভেচ্ছা।
প্রথমেই সৌমিত্রবাবু বলেন, এই ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি নিজে খুব স্বচ্ছন্দ না হলেও, এই মাধ্যম যে কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা তিনি দিব্যি বুঝতে পারেন।
সৌমিত্রবাবুর কথায়, "আমি নিজে এসব বুঝি না বেশি। কিন্তু আমার পরবর্তী প্রজন্মকে দূর থেকে দেখে যেটা বুঝি, এটি এখনকার সময়ের 'বাণীরূপ'। এটা থাকতে এসেছে, চলে যাওয়ার নয়। এই সময়ে পূর্ণাঙ্গ একটা ডিজিটাল সাহিত্যপত্রিকা হচ্ছে বাংলায়, এটাই আমাদের কাছে আনন্দের। আমি একে স্বাগত জানাচ্ছি।"
এ কথার পাশাপাশি জীবনানন্দ দাশের 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি' কবিতাও আবৃত্তি করে শোনান সৌমিত্রবাবু। বর্ষার দুপুরে এ যেন এক অনন্য প্রাপ্তি হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের কাছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে সুখপাঠের সম্পাদক অরিন্দম বসু উল্লেখ করেন, "সুখপাঠ একটা খোলা জায়গা। ভাল লেখক ও ভাল পাঠকরা একত্রে আসবেন। একজন লেখককে যেমন লিখতে লিখতে অনেকটা পথ পেরোতে হয়, তেমনই একটি সাহিত্য পত্রিকারও সময় দরকার হয়। ভাঙাগড়া আসে। সেই সময়টা সুখপাঠ চাইবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে।"
অরিন্দমবাবু জানান, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ অনেক বেশি থাকলেও অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে এই সুখপাঠ পত্রিকা ছাপা পত্রিকার থেকে আলাদা। এখানে ডিজিটাল মাধ্যমটির 'সুবিধা' গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাই লেখার সঙ্গে থাকবে ভিডিও ও শর্টফিল্ম। পাঠকরা পড়াবেন যেমন, তেমনই শুনবেন ও দেখবেন। পাঠককে এগিয়ে দেবে এই নতুন চেষ্টা।
সবশেষে অরিন্দমবাবু উল্লেখ করেন, “সাহিত্যের সবটুকু সুখপাঠ্য নয়, এ কথা ঠিক। পাঠকরাই একথা বলেন। কিন্তু শিল্পের যদি কোনও গভীর সত্য থেকে থাকে, তাহলে তা পাঠক উপলব্ধি করে। সেটাই পাঠকের সুখ। 'সুখপাঠ' সেই সুখের সূত্রেই বিশ্বাস করে। এই অসুখের সময়ে আমরা সুখের কথা বলতে চাইছি।”