দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসুস্থতার একটানা লকডাউনে কি বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়? এই প্রশ্নই উস্কে দিল তাঁর ডায়েরি। অভিনেতার গল্ফগ্রিনের বাড়ির স্টাডিরুমের টেবিলে পাওয়া গেছে ডায়েরিটি।
অবশ্য ডায়েরি না বলে তাকে সৌমিত্রবাবুর মনের খবর রাখা এক দলিলও বলা যায়। কারণ লকডাউনের শুরু থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া পর্যন্ত সৌমিত্রবাবুর যাবতীয় ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে এই ডায়েরিতেই, লেখা ও ছবি আকারে।
ওই ডায়েরিতেই লেখা রয়েছে, “লেখা, আঁকা এসব কাজের বোধ করি শেষ হয়ে এল।” সেই ডায়েরির পাতাতেই তিনি কবিতার গুঞ্জন আর শুনতে পান না বলেও আফশোস করেছেন। ডায়েরির লেখা যে হতাশার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা অনেকেরই মনে হয়েছে। সৌমিত্রর মেয়ে পৌলোমীও জানিয়েছেন, সৌমিত্রবাবু মানুষের সঙ্গে আড্ডায়-গল্পে থাকতেই ভালবাসতেন। আচমকা ঘরবন্দি একাকিত্ব তাঁকে বিষণ্ণ করেছিল। হয়তো সেই একাকিত্ব থেকেই লেখা, আঁকা শুরু করেছিলেন তিনি।
এমনিতে লকডাউনের সময়ে রোজই বিকেলবেলায় তাঁর বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় হাঁটাচলা করতেন সৌমিত্রবাবু। বাকি দিনটার বেশি সময়টাই কাটাতেন স্টাডিরুমেই। বই পড়তেন, লিখতেন। তবে নতুন করে শুরু করেছিলেন আঁকা। সেই সব আঁকা ও লেখাই ধরে রেখেছে ডায়েরিটি।
স্কুল জীবন থেকেই নাটক, আবৃত্তি করতেন তিনি। কলেজে পড়ার সময়েই রেডিওতে কাজ করা শুরু। ১৯৫৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসার ছবিতে কাজ করেন তিনি। সেই তাঁর সেলুলয়েডে অভিষেক। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সত্যজিৎ রায়ের ১৪টি ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। সোনার কেল্লা এবং জয়বাবা ফেলুনাথে ফেলুদার চরিত্রে সৌমিত্রবাবুর অভিনয় কালজয়ী হয়ে রয়েছে।
মাস দেড়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন সৌমিত্রবাবু। তারপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক কোমর্বিডিটি ছিল তাঁর। হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথম দুদিন ভাল ছিলেন সৌমিত্রবাবু। তার পর থেকেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। অবস্থার অবনতি হওয়ার পরই তাঁকে আইটিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশনে সমস্যা হচ্ছিল প্রবীণ অভিনেতার। মাঝে জানা যায় তাঁর মূত্র নালিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গত কয়েকদিন চিকিত্সায় সাড়া দিচ্ছিলেন না বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁকে ভেন্টিলেশনেও দেওয়া হয়। মস্তিষ্কে স্নায়ুর সমস্যাও দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত গতকাল, রবিবার জীবন যুদ্ধে হার মেনেছেন সৌমিত্রবাবু।